নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে ফিজিওথেরাপিস্টসহ দেশের রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল (বিআরসি)। সম্প্রতি কাউন্সিলের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিবন্ধন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী দেশের রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। আর এ লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদনের অনুরোধ জানিয়েছে কাউন্সিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন কাউন্সিলের এই নিবন্ধন কার্যক্রম দেশের ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিসহ রিহ্যাবিলিটেশন পেশাগুলোর মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, দীর্ঘদিন ধরে পেশাজীবীরা একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় নিবন্ধনের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিআরসি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ অনুযায়ী নিবন্ধন গ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি হালনাগাদ জাতীয় ডাটাবেইজ তৈরি হবে এবং পেশাগত মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পন্ন সব রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীকে দ্রুত নিবন্ধনের আবেদন করার জন্য আহ্বান করেন তিনি।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং নির্ধারিত ফি কাউন্সিলের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে, আবেদন ফরম ও বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এ দিকে কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮-এর ধারা ১৫(৪) অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী হিসেবে পেশা পরিচালনা করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন নিবন্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের রিহ্যাবিলিটেশন সেবা খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো যা পেশাজীবী ও সেবাগ্রহীতা উভয়ের জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।



