মাহবুবার রহমান রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে নির্ধারিত সিডিউল না মানা এবং কোনো পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পুকুরচুরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে নদীতীরবর্তী মানুষ। স্থানীয়রা নতুন করে নদী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন।
রাজারহাট উপজেলার ডাংরাহাট ও গাবুরহেলান এলাকায় চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলছে। সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কোথাও কোনো তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে দায়িত্বরতদের মধ্যে অস্বস্তি ও সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়। এ সময় শ্রমিকদের তড়িঘড়ি করে সেচযন্ত্র চালিয়ে জিও ব্যাগের ওপর পানি ছিটাতে দেখা যায়।
প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী, প্রতিটি জিও ব্যাগে (স্যান্ড সিমেন্ট) বালু ও সিমেন্ট মিশ্রিত ভরাটকৃত ওজন ১৭৫ কেজি হওয়ার কথা। তবে রামহরি মৌজায় ওজন করে দেখা যায়, অধিকাংশ বস্তা ১৩৬ থেকে ১৪৯ কেজির মধ্যে। স্থানীয় বালুর সাথে পাটগ্রামের মোটা বালুর সংমিশ্রণ দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ ছাড়া ৬০ কেজি সিমেন্টের স্থলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ কেজি করে সিমেন্ট ব্যবহার করে করা হচ্ছে স্যান্ড সিমেন্ট। গাইড ওয়াল থেকে টপ লেভেল পর্যন্ত ৯.৫০ মিটার উচ্চতা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ৯ মিটারেরও কম পাওয়া গেছে। বস্তা স্লোপিংয়েও দেখা গেছে অতিরিক্ত ‘লেপিং গ্যাপ’।
জানা যায়, প্রকল্পে দুর্নীতির মাত্রা এতটাই প্রকট যে, এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রায় আট হাজার নিম্নমানের জিও ব্যাগ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম সবুজ অভিযোগ করেন, এখানে রীতিমতো পুকুরচুরি হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি স্লোপিংয়ের দৈর্ঘ্যও কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। মাহবুবুর রহমান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এভাবে কাজ হলে আগামী বর্ষায় এই বাঁধ বালুর বাঁধের মতো ধসে পড়বে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, রাজারহাটের ডাংরাহাটে স্যান্ড-সিমেন্ট ও স্যান্ডফিল জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনিয়মের কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওজনে কম পাওয়া গেলে সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন ব্যাগ দেয়া হবে এবং অন্যান্য অভিযোগের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় ১৯ কিলোমিটার অতি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দুই দফায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। রাজারহাটে চলমান ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে আট কিলোমিটার অংশেই অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।



