আবুল কালাম আজাদ বগুড়া ও রাকিবুল ইসলাম ধুনট
বগুড়ার ধুনটে আঙুর চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে আব্দুল হাকিমের। তিনি এর পাশাপাশি পেয়ারা, ড্রাগন, বরই চাষ করেছেন। ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউট নগর (কোদলা পাড়া) গ্রামের আব্দুল হাকিম। প্রতিদিন আঙুর চাষি আব্দুল হাকিমের আঙুর বাগান দেখতে এসে ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। একই সাথে তিনি কলম চারা গাছ বিক্রি করেও ভালো লাভবান হচ্ছেন।
আঙুর চাষি হাকিম জানান, আমি ইউটিউব চ্যানেলে আঙুর চাষ দেখে ২০২৪ সালে নিজ বাড়ির পাশে মাত্র ৭ শতাংশ জমিতে ভারতীয় চয়ন জাতের আঙুর চাষ পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করি । প্রথম বছর ভালো ফলন হওয়ায় চলতি মৌসুমে ৫৭ শতাংশ জমিতে ৩২২টি গাছে মোট ১৬টি জাতের আঙুর চাষ করেছি। প্রথম বছর তার খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা। সে বছর তিনি ফলন পাননি। অন্যান্য জাতের সাথে অষ্ট্রেলিয়ান জাতের মধ্যে রয়েছে, গ্রীল লং, বাউকুলো, অ্যাকোলা। চারা গাছ লাগানোর পর ফুল ধরে এবং ৮ মাসের মধ্যে আঙুর ধরে। স্থানীয় কৃষি অফিস পরামর্শ দেয় তবে কোনো কারিগরি সহায়তা দেয় না বলে জানান চাষি হাকিমের স্ত্রী ববিতা খাতুন।
চাষি হাকিম বলেন, গাছের পরিচর্যায় পানি, গোবর, ইটের সুড়কি ও সার দেই। তবে গত বছরের চেয়ে এবার আঙুর গাছে পোকার উপদ্রব অনেকটাই কম। পাখির উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাতাস চলাচল উপযোগী পাতলা ব্যাগ দিয়ে আঙুর ফল ঢেকে রেখেছি। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলনও বেশি হয়। যার কারণে আগামী বছর আরো ভালো ফলনের আশাবাদী। তিনি জানান, এর আগে আমি মাল্টা, বরই, ড্রাগন, পেয়ারা চাষ করেছি। আঙুর শুকনো মওসুমের ফল। তাই বর্ষা হলে গাছের আঙুরে পচন ধরে। শুকনো মওসুমে ফলন বেশি ও সুস্বাদু হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন গাছের গোড়ায় পানি দিতে হয় এবং পোকামাকড় থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হয়। চাষি হাকিমের বাগানের কলম চারা গাছ বিক্রি হয়। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থকে সেই গাছ কিনে নেন অনেকে। প্রতিটি চারা গাছ বিক্রি হয় ৩৫০ টাকা দরে। এখানে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী থেকেও চারাগাছ কিনতে আসে মানুষ। তিনি বলেন, প্রথম বছর এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় বছর দুই লাখ টাকা এবং চলতি বছর প্রায় ১০ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি হবে বলে আশা করি। এ পর্যন্ত তিন বছরে সর্বসাকুল্যে বিক্রি থেকে আয় প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা।
চাষি হাকিমের স্ত্রী ববিতা খাতুন জানান, প্রতিদিন আঙুর বাগান থেকে তুলে বগুড়া ফলের আড়ৎ ও ধুনটে পাইকারি দরে ৩৭০-৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।
এ ব্যাপারে ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আঙুর বাগানটি পরিদর্শন করেছি। আমরা প্রাথমিকভাবে তাকে পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক পরামর্শে আগামীতে আঙুরের চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।



