নিরাময় ডেস্ক
শ্বাসনালীতে কিছু আটকে গেলে যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় তত ভালো। আমাদের গলার ভিতর খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী পাশাপাশি থাকে। যখন আমরা খাবার খাই, তখন স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই আমাদের শ্বাসনালীর উপরের অংশ ঢাকা পড়ে যায়। এবার খাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়লে, কথা বললে বা তাড়াহুড়ো করে না চিবিয়ে গিলতে গেলে সেই খাবারের কিছু অংশ শ্বাসনালীতে ঢুকে যায়। তখনই ‘বিষম’ বা প্রচলতি কথায় ‘সটকা’ লাগে।
শ্বাসনালীতে খাবার আটকে গেলে এবং যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আবার মাছের কাঁটা বা অন্য কোনো ছোট খাবার পুরো গিলে ফেললে তা আটকে যায় খাদ্যনালীতেই। গলার মাংস খুব নরম হয় বলে মাছের কাঁটা ফুটে গিয়ে খচখচ করতে থাকে। আবার ধরুন শিশু মার্বেল গিলে ফেলল বা আস্ত লিচু একবারে গিলে নিল; সেক্ষেত্রেও খাদ্যনালীতে খাবার মাঝখানে আটকে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে খাদ্যনালীও।
লক্ষণ
শিশু নিজেই যখন বলে যে কিছু একটা আটকে গেছে। হঠাৎ কাশি শুরু হলে, শিশু কিছু নিয়ে খেলছিল দেখার পরে যদি বিষম খেতে শুরু করে। মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হলে। শিশুদের একটা অদ্ভুত প্রবণতা থাকে, যা পায় তাই কুড়িয়ে মুখে দেওয়া। যেমন-লিচু, বেদানা, বরই, চিনাবাদাম জাতীয় ছোট্ট আকারের খাবার ইত্যাদি। এবার বাবা-মায়ের ক্ষণিকের অসাবধানতায় শিশু যদি এগুলোর কোনোটা গিলে ফেলে, সেটা তার গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। খেতে খেতে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে গেলে বা হাসতে গেলে বা হঠাৎ হাঁচি বা কাশি পেলেও শিশুর গলায় খাবার আটকে যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসা
শিশুর মুখ খুলে জিনিসটি দেখা গেলে সাবধানতার সাথে বের করার চেষ্টা করুন। তবে দেখা না গেলে খোঁচাখুঁচি করবেন না, এতে আটকে যাওয়া জিনিসটি আরো ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। শিশু যদি কাশতে থাকে তাকে কাশতে দিন, কাশির সাথে আটকে যাওয়া জিনিসটি বেরিয়ে আসতে পারে। যদি শ্বাসকষ্ট হয় তাহলে পিঠ চাপড়ে দিন।



