কুলাউড়া ইছলাছড়া পুঞ্জিতে দেড় শ’ একর বনভূমি জবরদখল

শত শত গাছ কেটে সাবাড়

Printed Edition
বনভূমি দখল করে পান ও সুপারির চারা রোপণ : নয়া দিগন্ত
বনভূমি দখল করে পান ও সুপারির চারা রোপণ : নয়া দিগন্ত

মো: আব্দুর রকিব কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাগানো হচ্ছে পান-সুপারি গাছ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে ব্যাপক গাছ কাটা ও জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্টের আওতাধীন ইছলাছড়া এলাকায় খাসিয়ারা জোরপূর্বক বন বিভাগের দেড় শ একর বনভূমি দখল করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা শত শত গাছ কেটে সাবাড় করে সেখানে পান ও সুপারির চারা রোপণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

জানা যায়, বরমচাল বিট কর্মকর্তা মো: আব্দুল ওয়াদুদ বাদি হয়ে ইছলাছড়া পুঞ্জির হেডম্যান (মন্ত্রী) হরলাল খাসিয়া, লিড়িয়া খাসিয়া, আল ফায়েজ খাসিয়া ও জনি খাসিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ খবর পেয়ে খাসিয়ারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে ৫০-৬০ জন শ্রমিক নিয়ে ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লক-২ এর অন্তর্গত ইছলাছড়া এলাকায় তারা অভিযান চালান। এ সময় তারা ১৫০ একর বনভূমির জঙ্গল পরিষ্কার করে শত শত পান ও সুপারির চারা রোপণ করেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ইছলাছড়া বনাঞ্চলে বন বিভাগের ২০-২২টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং শত শত গাছের গোড়ায় পানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সুপারির বড় বড় চারা লাগানো হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে চলছে গাছ কাটা ও পান সুপারি বাগান তৈরির কর্মযজ্ঞ।

বরমচাল বিট কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বন বিভাগের বারবার আপত্তি উপেক্ষা করে খাসিয়ারা উগ্র আচরণ করছেন। এমনকি তারা স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিয়েও চারা রোপণ অব্যাহত রেখেছেন। বিট কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আমরা খাসিয়াদের এ কর্মকাণ্ডে বনজ সম্পদ নষ্ট, সরকারি সম্পত্তি জবরদখল ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা করছি।’

কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিন সিং জানান, ইছলাছড়া বনাঞ্চলটি রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্গত। এখানে এক হাজার ১৯৭ একর বনভূমি রয়েছে, যার মধ্যে ১৫০ একর বনভূমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে, যা এখন বিচারাধীন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের জেলা জজ আদালত ওই বনায়নের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে খাসিয়ারা গত একসপ্তাহ ধরে বনভূমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রবিন সিং বলেন, ‘আমরা এক ইঞ্চি বনভূমিও জবরদখল করতে দেবো না।’

কুলাউড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার তিনি ইছলাছড়া বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানকালে কোনো খাসিয়াকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ ফরেস্টে বেআইনিভাবে গাছ কর্তন অথবা জমি জবরদখল করতে কাউকে পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ওই সময় অভিযানকালে কাউকে না পাওয়ায় আদালত পরিচালনা করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রীকে সতর্ক করে এসেছি। বন বিভাগকে সুনির্দিষ্টভাবে মামলা দেয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়ে এসেছি।’

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার জানান, সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ওই বনভূমির ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘খাসিয়ারা আদালতের আদেশ অমান্য করে যদি কোনো ধরনের গাছ রোপণ করে থাকেন, তাহলে আমরা বিষয়টি বন বিভাগের মাধ্যমে আদালতে পিটিশন দায়ের করব এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।’

এদিকে খাসিয়াদের এ কর্মকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি বনভূমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বন বিভাগ ও প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।