ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার প্রভাব মূল্যায়ন করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

Printed Edition
ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার  প্রভাব মূল্যায়ন করবে  সরকার : অর্থমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার প্রভাব মূল্যায়ন করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীরা ভাতা নিয়ে কী করছেন, তার প্রভাব কী পড়ছে, তা মূল্যায়ন করবে সরকার। শুধু তা-ই নয়, এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রম ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। আর তালিকা হালনাগাদ করা হবে প্রতি চার বছর পর। যাদের জীবনমানের উন্নতি হবে, তারা এই কর্মসূচি থেকে বাদ পড়বেন। তখন নতুন উপকারভোগীরা এই কার্যক্রমের আওতায় আসবেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভাতা পেয়ে উপকারভোগীরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কতটুকু এগিয়ে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজস্বের বড় একটি অংশ এই খাতে ব্যয় হবে, প্রতি বছরই বরাদ্দ দেয়া হবে। ফলে সেই টাকা দিয়ে উপকারভোগীদের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধন) নীতিমালা ২০২৬ চূড়ান্তকরণ ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী জানান, প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে ফ্যামিলি কার্ড পান, সে কারণে বাছাই প্রক্রিয়ায় দলীয় লোক রাখা হয়নি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা যেন ফ্যামিলি কার্ড পান, সে বিষয়ে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা গ্রুপ বেনিফিট পাবে, এখানে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি হবে, আর দেশের বাকি লোক অর্থনীতির কোনো সুযোগ পাবে না, তাদের কাছে অর্থনীতির সুফল যাবে না, সে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এটা তো একটা গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনীতির জন্য কাম্য না। এইজন্য আমরা এর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। এক সাংবাদিক জানতে চান, দরিদ্র কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে সেক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ডের কী হবে? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সে কৃষক কার্ড পাবে। ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের সুযোগ পাবে। বয়ষ্ক ভাতার সুযোগ পাবে। অনেক আছে।

তবে কেবল এ ধরনের কার্ড নির্ভরতা নয়, বরং কর্মক্ষম দেশ গড়ায় সবার চেষ্টা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা এই দেশটাকে কর্মক্ষম, দক্ষ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ সব দিচ্ছি। কিন্তু সবাইকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি এও বলেন, সবাইকে পরিশ্রমের মাধ্যমে তার টাকা আর্ন করতে হবে। এটা হচ্ছে ইকোনমিতে একটা দেশকে সামনে যাওয়ার এগিয়ে যাওয়ার মূল কথা।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, চার বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। আগামী অর্থবছরে পাবে ৪১ লাখ পরিবার। ভাতা দেয়ার কার্যক্রম প্রথম দিন থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক (এনআইডি) করা হয়েছে। কেউ অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকলে এ কার্ড পাবেন না। সেটি কেউ গোপন করলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ধরে ফেলবে।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উপকারভোগী বাছাইয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন যুক্ত থাকবে। বিএনপির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামের আমিরেরা নিজেদের লোকদের যাতে এ কর্মসূচির আওতায় না নিয়ে আসতে পারেন, সে জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠন করার পরপর গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়নাধীন এ কার্ডের সুবিধাভোগী নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন।