ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দফা দাবি

Printed Edition
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ডিআরইউতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে : নয়া দিগন্ত
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ডিআরইউতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলমকে অপসারণ এবং এস আলম গ্রুপসহ ‘ব্যাংক লুটেরাদের’ বিচারের দাবিতে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।

পাশাপাশি শনিবারের (১৩ জুন) মধ্যে দাবি মানা না হলে ১৭ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

অবৈধ চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা প্রদান, লুটেরা এস আলম ও ফ্যাসিবাদের দোষরদের বয়কট এবং গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী এ দাবি জানান।

অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমামের বক্তব্যের মাধ্যমে গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের আমানত তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৃহত্তম এই ব্যাংকটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়া, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়া। এই পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে।

সংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পালিয়ে যাওয়ার একজন কর্মকর্তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার ফলে গ্রাহকরা আতঙ্কিত। মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করলে সকল সমস্যার সমাধান হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে পেশ করা ৭ দফা দাবিগুলো হলো:

১. চেয়ারম্যানের অপসারণ: অবিলম্বে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলমকে অপসারণ করে ব্যাংকিং খাতে দক্ষ, সৎ ও পেশাদার কোনো ব্যক্তিকে সেই পদে নিয়োগ দিতে হবে।

২. শেয়ার ফেরত: এস আলম গ্রুপ বা যারা জবরদস্তি করে শেয়ার দখল করেছে, সেই শেয়ারগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়ে যে মালিকানা বদল করা হয়েছিল, তা বাতিল করতে হবে।

৩. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল: ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. স্থিতিশীলতা রক্ষা: ইসলামী ব্যাংকগুলো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থাকতে হবে এবং পপ্রচার বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার: বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে খেলাপিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করতে হবে।

৬. ব্যাংক লুটেরাদের দেশত্যাগ বন্ধ: ব্যাংক লুটেরাদের দেশত্যাগ বন্ধ করতে হবে। কোনো লুটেরা বা তাদের সহযোগীদের ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংশোধন করতে হবে।

৭. বক্তব্য প্রত্যাহার: জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত ‘অসত্য’ বক্তব্য এবং ‘এস আলমের হাতে ব্যাংক তুলে‘ দেওয়া সংক্রান্ত বক্তব্য দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, এসব দাবি শনিবার (১৩ জুন) বিকেলের মধ্যে মেনে না নেওয়া হলে আগামী ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং ১৭ জুন (সোমবার) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি জাতীয় সম্পদ। ২০০৭ সাল পর্যন্ত এটি দেশের সবথেকে শক্তিশালী ও আস্থাশীল ব্যাংক ছিল। আমরা ব্যাংকটিকে আবার সেই গৌরবময় অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রাহক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাস্সিম বিল্লাহ, সহ-সভাপতি আ.ফ.ম. ইউসুফ, শামীম ইসলাম প্রমুখ ফোরামের নেতারা।