আতিকুর রহমান মানিক ঈদগঁাঁও (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের ঈদগঁাঁও উপজেলার ইসলামপুর শিল্প এলাকায় লবণ রফতানি শুল্ক আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে বাধা সৃষ্টি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে সরকার নির্ধারিত ইজারা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ লবণ শিল্পাঞ্চল ইসলামপুরে অর্ধশতাধিক লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক ক্রাশ ও আয়োডিনযুক্ত লবণ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। গত চার দশক ধরে এ লবণ পরিবহনের ওপর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে শুল্ক আদায় করা হয়ে আসছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ইজারা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ইজারাদার নিয়োগের পর থেকেই পূর্বের একটি পারিবারিক সিন্ডিকেট এ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। গত বছরের ১৩ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাছে ইজারা প্রদান করা হলেও তারা এখনো কার্যকরভাবে শুল্ক আদায় করতে পারছেন না।
ইজারাগ্রহীতা নূরুল আমিন, রশিদুল ইসলাম ও মনির আহমদ জানান, গত বছরের ৩০ এপ্রিল কার্যাদেশ পাওয়ার পরও চাঁদাবাজদের বাধার কারণে তারা নিয়মিত শুল্ক আদায় করতে পারেননি। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন আদায় কার্যক্রম চালু থাকলেও সম্প্রতি আবারো তা বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে একটি চক্র লবণবাহী ট্রাক থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ইজারাদাররাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গত প্রায় আট মাস ধরে এ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, ‘উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে নিয়ম মেনে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু একটি চক্র তা বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।’ তিনি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে লবণ শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।



