তুরস্ককে প্রথমবার হারাল অস্ট্রেলিয়া

Printed Edition
গ্যালারির দশর্কদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন অস্ট্রেলিয়া ফুটবলাররা : ইন্টারনেট
গ্যালারির দশর্কদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন অস্ট্রেলিয়া ফুটবলাররা : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারের আসরেও দ্বিতীয় রাউন্ডের পথেই হাঁটতে শুরু করেছে সকারুজরা। অপর দিকে দুই যুগ পর বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষ রাঙাতে পারল না তুরস্ক। ফেবারিট হিসেবে তার্কিশরা মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার দিয়েই মাঠ ছাড়ল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নেস্টোরি ইরানকুন্ডা দলকে এগিয়ে নেয়ার পর ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন কনর মেটকাল্ফ।

ভ্যানকুভারে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে গতকাল আটটি চমৎকার সেভে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। অবশ্য পুরো ম্যাচে দাপটের সাথেই খেলেছে ২৪ বছর পর মেগা আসরে ফেরা তুরস্ক। পুরো ম্যাচে ৬৩ শতাংশ বল দখলে রেখে আক্রমণেও আধিপত্য করে ইউরোপের দেশটি। এ সময় গোলের জন্য নেয়া ২৮ শটের সাতটি লক্ষ্যে রাখলেও কাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি তারা। অপর দিকে ৩৭ ভাগ বল পজিশনে রেখে ৮ শটের চারটি লক্ষ্যে ২ গোল আদায়ে তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম জয়ের পাশাপাশি পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিজেদের ঝুলিতে পুড়ে অস্ট্রেলিয়া।

কানাডার ভ্যানকুভারে গতকাল ম্যাচ শুরু ২৫ মিনিটে গোলের জন্য তেমন কোনো ভালো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি দুই দলই। ২৬ মিনিটে পোস্টে প্রথম শট নেয় তুরস্ক। সতীর্থের কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি আর্দা গুলের। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে চলে গেলে বঞ্চিত হয় তুরস্ক। সেখান থেকেই পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের অর্ধ থেকে পল ওকন এংস্টলারের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একজনকে পেছনে ফেলে দুই ডিফেন্ডারের মাঝে দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সকারুদের উল্লাসে ভাসান ইরানকুন্ডা। এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়ে গেলেন ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেয়া এই উইঙ্গার জাতীয় দলের হয়ে করলেন ষষ্ঠ গোল।

দুই মিনিট পর সমতা ফেরার দারুণ সুযোগ পেলেও ভাগ্য সহায় হয়নি তুরস্কের। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন আবুদলকারিম বারদাকচি। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের হাতের হালকা ছোঁয়ায় বলের দিক পাল্টে আঘাত হানে পোস্টে। ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আরো মরিয়া হয়ে উঠে তুরস্ক। প্রতিপক্ষের রক্ষণে একের পর এক হানা দিলেও বারবার তাদের হতাশ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া গুলেরের শট গোলরক্ষক ডান দিকে ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দিলে এবারো সমতায় ফেরা হয়নি তুরস্কর। বারবার আক্রমণে উঠলেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় সুফল পাচ্ছিল না দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশটি। তুরস্কের একের পর এক শট প্রতিহত করেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা ও গোলরক্ষক।

খেলার ধারার বিপরীতে ৭৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও হজম করে তুরস্ক। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে বাঁ পাশের নিচের কোণা দিয়ে বল জালে পাঠান মেটকাল্ফ। ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের দেশের জার্সিতে এটি দ্বিতীয় গোল। কিছুক্ষণ পর গোলের শোধের দারুণ সুযোগ পেয়েও বল গোলরক্ষক বরাবর মারেন কেরেম আকতুরকোগলু। এরপর ৮৫ মিনিটে কালহানোগলোর ফ্রি কিক দারুণ দক্ষতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান বিচ। শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা আর পায়নি তুরস্ক। দুই যুগ পর বিশ্ব মঞ্চে ফিরলেও হতাশায় সঙ্গী হলো তাদের। আগামী শনিবার প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে তুরস্ক। আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে লড়বে অস্ট্রেলিয়া।