হলো না হোয়াইটওয়াশ

Printed Edition
প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ৬ উইকেট পাওয়া শরীফুলের এমন উচ্ছ্বাসই স্বাভাবিক : নাসিম সিকদার
প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ৬ উইকেট পাওয়া শরীফুলের এমন উচ্ছ্বাসই স্বাভাবিক : নাসিম সিকদার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ! ভেতরে প্রবেশ করতে পারল না। আর কয়েকটি বল, আর একটি উইকেট নিলে হয়তো হয়ে যেত আরো বড় এক কীর্তিগাথা। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন তখন হাতছানি দিচ্ছিল। কিন্তু ক্রিকেটের নাটকীয়তা শেষ পর্যন্ত অন্য গল্প লিখল। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে ১ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো অসিরা। তবে সিরিজটা ঠিকই নিজেদের করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এবারই প্রথম পেয়েছে সিরিজ জয়ের আনন্দ! তাই বা কম কিসে। টাইগারদের থাবায় এখনো কুপোকাত হয়নি ইংল্যান্ড।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে আজ আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তুলে ম্যাচটা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। তাতেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর অস্ট্রেলিয়া বাঁচল লজ্জা থেকে।

বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। মাত্র ৬১ রানেই হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। তখন বড় সংগ্রহ তো দূরের কথা, দুই শ’-এর ঘর পার হওয়াটাও অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল। সেই অবস্থায় হাল ধরেন লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়। দুজনের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশকে শুধু বিপদমুক্তই করেনি, বড় সংগ্রহের ভিত্তিও গড়ে দিয়েছে। ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়ার পর ফিরে এসে লিটনের অপরাজিত ৫৮ রান ছিল দায়িত্বশীল এক ইনিংস। আর হৃদয় খেলেছেন ৮৩ রানের পরিণত ও আক্রমণাত্মক এক ইনিংস। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝোড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে এনে দেয় লড়াই করার মতো পুঁজি। ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন এই অলরাউন্ডার।

তবে দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সটি এসেছে বল হাতে। আর সেটি করেছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস যখন ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছিল, তখনই আঘাত হানেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে। ম্যাচে ফেরার আশা জাগে বাংলাদেশের। কিন্তু সেই আশা বারবার ম্লান করে দেন কুপার কনোলি। ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার খেলেছেন অসাধারণ এক ইনিংস। শুরুতে ধৈর্য, পরে আক্রমণ- দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশী বোলারদের বিপাকে ফেলেন তিনি। ৮৭ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তার ব্যাটেই মূলত জয়ের ভিত গড়ে অস্ট্রেলিয়া।

তার পরও ম্যাচের গল্প শেষ হয়ে যায়নি। শেষ মুহূর্তে আবারও নাটকীয়তা ফিরিয়ে আনেন শরিফুল। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ম্যাচকে টেনে আনেন বাংলাদেশের দিকে। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার। পরে আরো একটি উইকেট নিয়ে নিজের শিকারসংখ্যা দাঁড় করান ৬-এ। ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট-ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো এমন বোলিং করেননি শরিফুল। এটি তার ব্যক্তিগত সেরা বোলিং, একই সাথে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

তবুও শেষ হাসিটা হাসতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম জাম্পার ব্যাট থেকে আসা একটি চারই শেষ করে দেয় বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন। ম্যাচ হারার আক্ষেপ অবশ্য থাকবেই। কারণ জয়টা খুব কাছেই ছিল। কিন্তু তিন ম্যাচের সিরিজ শেষে বড় ছবিটা বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। আর সেই ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে শরিফুল ইসলামের আগুনঝরা স্পেলও!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২৭৪/৪ (সৌমথ্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, মেহেদি ৩, বার্টলেট ২/৪৭, ডোয়ার্শাস ১/৫৫, রেনশ ২/৪৪)।

অস্ট্রেলিয়া : ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ২১, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, ডোয়ার্শাস ৪, জথ্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ১/৫৯, মোস্তাফিজ ১/৫৬, শরিফুল ৬/৪৮, মেহেদী ১/৩৭)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী।

ম্যাচসেরা : কুপার কনোলি।

সিরিজসেরা : মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।