সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতে আংশিক মুনাফা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন এবং সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকগুলোর রেজুল্যুশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আমানতকারীদের মুনাফা না দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তা আংশিকভাবে পুনর্বিবেচনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতের ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুল্যুশন ডিপার্টমেন্ট (বিআরডি) থেকে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক্সিম ব্যাংক পিএলসির প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, আমানতকারীদের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি সমতা নিশ্চিত করতে পূর্বের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

কী সিদ্ধান্ত বদলাল : বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী- ব্যক্তিগত (অপ্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত ও স্কিমভিত্তিক আমানতে ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দিতে হবে।

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যমান আমানত স্থিতি আবার হিসাবায়ন করতে হবে। পুনঃহিসাবায়নের প্রভাবসহ একটি সমন্বয় বিবরণী আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে ব্যাংক রেটের বেশি মুনাফা প্রদান হয়ে থাকলে, অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যৎ মুনাফা থেকে কিস্তিতে সমন্বয় করতে হবে। তবে অন্যান্য সব ধরনের আমানতের েেত্র পূর্বের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেজুল্যুশন প্রক্রিয়ার প্রোপট : বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক খাত গত কয়েক বছরে চরম তারল্য সঙ্কট, খেলাপি ঋণ ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় গভীর সঙ্কটে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে রেজুল্যুশন স্কিম গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠনের উদ্যোগ নেয়।

এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের তি সামাল দিতে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক অসন্তোষ ছিল।

আমানতকারীদের আংশিক স্বস্তি, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে : বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্তে আমানতকারীরা আংশিক স্বস্তি পেলেও এটি পুরোপুরি তিপূরণ নয়। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের েেত্র মুনাফা নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যাংক রেট ব্যবহার করা শরিয়াহসম্মত কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

একাধিক ইসলামী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা ও লুটপাটের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানো ন্যায্য নয়। তাদের মতে, তির দায় সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ, ঋণখেলাপি ও নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতার সাথে জড়িতদের বহন করা উচিত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল : বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সীমিত মুনাফা প্রদানের মাধ্যমে একদিকে আমানতকারীদের আস্থা কিছুটা ফেরানো যাবে, অন্য দিকে নতুন ব্যাংকের মূলধন কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। এটি একটি সঙ্কটকালীন সমঝোতামূলক সিদ্ধান্ত, যা পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বা শরিয়াহভিত্তিক নয়, বরং রেজুল্যুশন প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার কৌশল।

সামনে কী : এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কতটা স্বচ্ছভাবে হয়, এবং ভবিষ্যতে আমানতকারীদের পূর্ণ অধিকার ও মুনাফা নিশ্চিতে কী কাঠামোগত সংস্কার আসে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। ইসলামী ব্যাংক খাতের আস্থা পুনর্গঠন না হলে, রেজুল্যুশন প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।