শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
পূর্ব সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা আবারো বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে পড়েছেন জেলে ও মৌয়ালীরা। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে ১৮ জেলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার গভীর রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালী এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলে বহনকারী নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালিয়ে ৬ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের দুই ভাই হাফিজুল ও ফাইজুর, বেল্লাল মীর, ছলেমান এবং পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের হাসিব। অপর একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে ফুসফুসেরচর সংলগ্ন সাগর মোহনায় মাছ ধরার সময় একটি ট্রলারসহ আরও ১২ জেলেকে অপহরণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী জড়িত। দস্যুরা ১৫ থেকে ১৬ জনের সশস্ত্র দল নিয়ে বিশেষ ধরনের পোশাক পরে অভিযান চালায় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, জাহাঙ্গীর বাহিনী এখন সুন্দরবনের জেলে-মৌয়ালীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। মুক্তিপণের জন্য জেলেদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তারা সুন্দরবনে দস্যু দমনে আবারও বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানান।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দস্যু আতঙ্কের কারণে এ বছর বন থেকে মধু সংগ্রহ ও মাছ আহরণ কমে গেছে। এতে রাজস্ব আয়ও কমেছে।
শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মিজানুর রহমান ৬ জেলে অপহরণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।



