নাসিরনগরে খেয়াঘাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

Printed Edition

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ-কুন্ডা বেড়িবাঁধের কুকুরিয়া ভাঙা ব্রিজসংলগ্ন খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে মাশুল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ঘাটটির ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের তীর গোকর্ণ ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মো: হাবিবুর রহমানের দিকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে হাবিবুর রহমান খেয়াঘাটটির ইজারা গ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটে মাশুলের হারসংবলিত তালিকা টানিয়ে রাখার কথা থাকলেও সেখানে কোনো মাশুল ফর্দ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি আড়াল করতেই তালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদারের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন এবং পারাপারকারী যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বাগি¦তণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

খেয়াঘাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিলাম আহ্বানের বিষয়ে জাতীয় বা স্থানীয় কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড কিংবা সরকারি ওয়েবসাইটেও নিলামসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, গত বছর ঘাটটি চার লাখ টাকার বেশি মূল্যে ইজারা দেয়া হলেও চলতি বছর মাত্র ৭০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। এতে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো: শাহীন বলেন, নিলাম আহ্বানের বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদেও কোনো বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়নি। গত বছরের তুলনায় অনেক কম মূল্যে ইজারা দেয়া হয়েছে। আগ্রহী অনেকেই এই নিলামে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ ইজারা নেয়ার চেষ্টা, চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাসরিন বলেন, ইজারা চুক্তি অনুযায়ী জনসাধারণের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্টদের ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংসদ সদস্য এম এ হানান বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অনিয়ম বা অন্যায় করে থাকলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো: হাবিবুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।