মুহা: আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো
আর মাত্র এক সপ্তাহ পর মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানিকে সামনে রেখে রাজশাহীর বিভিন্ন পশুর হাটে ইতোমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে দেশী গরু-ছাগল। কয়েক মাস ধরে যতেœ লালনপালন করা পশু নিয়ে ছোট-বড় খামারিরা হাটে এলেও এখনো দেখা মিলছে না প্রত্যাশিত ক্রেতার। ফলে অনেকটা নিরুত্তাপ পরিবেশ বিরাজ করছে জেলার বড় বড় পশুর হাটগুলোতে। তবে খামারি ও ইজারাদারদের আশা, এ সপ্তাহ থেকেই জমে উঠবে কোরবানির পশুর বাজার।
গত বুধবার রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট ‘সিটি হাট’ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খামারি এবং ব্যাপারিরা নানা আকার ও জাতের গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। দুই মণ ওজনের ছোট গরু থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির ষাঁড়ও রয়েছে হাটে। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি মাঝারি আকারের গরুর প্রতি।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ছোট আকারের গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা থেকে। মাঝারি আকারের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতাদের দাবি, এবার প্রতি কেজি গোশতের হিসাব ধরে প্রায় এক হাজার টাকা হিসেবে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। চার মণ ওজনের একটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং তিন মণ ওজনের গরুর দাম রাখা হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে দরদামের সুযোগও রয়েছে বলে জানান তারা।
তানোর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকা থেকে দু’টি গরু নিয়ে সিটি হাটে এসেছেন খামারি সোহাগ আলী। তিনি বলেন, ‘দুটো গরুই প্রায় ছয় মণ ওজনের হবে। প্রতিটির দাম আড়াই লাখ টাকা চাচ্ছি। সোয়া দুই লাখ টাকা পেলেই বিক্রি করে দেব। খাবারের দাম বেশি হওয়ায় এবার খরচও অনেক বেড়েছে।’
আরেক বিক্রেতা রমজান আলী বলেন, ‘খামারে চারটি গরুর মধ্যে তিনটি কোরবানির উপযোগী হয়েছে। এখনো ক্রেতা কম। মানুষ শুধু দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছে, তেমন দরদামও করছে না। আশা করছি ঈদের দুই-তিন দিন আগে বিক্রি বাড়বে।’
শুধু সিটি হাট নয়, সোনাইচণ্ডী হাট, কাঁকনহাট, দামকুড়াহাট, সাবাইহাট, বানেশ্বরহাট, কাটাখালীহাট, নওহাটাহাট, কেশরহাট, তাহেরপুর হাট ও চৌবাড়িয়া হাটেও এখনো জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়নি। বর্তমানে নির্ধারিত সাপ্তাহিক দিনগুলোতে হাট বসলেও ঈদের আগের সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন হাট বসবে বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।



