এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

ভাবসম্প্রসারণ

Printed Edition
এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র
এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

মো. সুজাউদ দৌলা

সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

সুপ্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলা দ্বিতীয় পত্র বিষয় থেকে আরও ১টি গুরুত্বপূর্ণ ‘ভাবসম্প্রসারণ’ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য

ভাবসম্প্রসারণ : বিদ্বান যদি চরিত্রহীন বা দুর্জন হয় তবে তাকে দিয়ে কোনো উপকার আশা করা অনুচিত। চরিত্রহীন ব্যক্তি অজস্র জ্ঞানের অধিকারী হলেও তার সঙ্গ সর্বদাই পরিত্যাগ করা উচিত।

‘দুর্জন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ দুষ্ট বা খল ব্যক্তি। ‘বিদ্বান’ শব্দের অর্থ প-িত, সুশিক্ষিত বা জ্ঞানী ব্যক্তি। দুর্জন ব্যক্তি চরিত্রহীন ব্যক্তির তুল্য। চরিত্র হচ্ছে কল্যাণ ও সত্যের প্রতি সুতীব্র অনুরাগ। চরিত্রবান ব্যক্তি তার সব জ্ঞানকে সত্য ও কল্যাণের পথে চালিত করে। তিনি অহংকারহীন, হিংসা-বিদ্বেষহীন সংযত জীবনযাপন করেন। মূলত কথায় কাজে এবং চিন্তায় সামঞ্জস্য রক্ষিত হলে মানুষের মধ্যে যে একটি পবিত্র ভাব ফুটে ওঠে তাকে চরিত্র বলে অভিহিত করা যায়। দুর্জন লোকের চরিত্রে এসব গুণের সমাবেশ দেখা যায় না। আমরা জানি বিদ্যা মানুষের অমূল্য সম্পদ, বিদ্যা মানুষের মনের চোখ খুলে দেয়। বিদ্যা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ পৃথিবীর যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। শুধু তাই নয়, মানুষ, সমাজ, জাতির কল্যাণ কীভাবে করা যায়, তার যাবতীয় নির্দেশনাও মানুষ বিদ্যা শিক্ষার মাধ্যমে জানতে পারে। সর্বোপরি একজন বিদ্বান লোক দেশ ও জাতির কল্যাণে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু বিদ্বান ব্যক্তি যদি চরিত্রহীন হয় তবে তার যাবতীয় জ্ঞান সুস্থ-সুন্দর পথে কাজে না লাগিয়ে অমঙ্গলের পথে, অসুন্দরের পথে কাজে লাগাতে পারেন; যা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিদ্বান ব্যক্তি যদি দুষ্ট বুদ্ধিসম্পন্ন, চরিত্রহীন, লম্পট হন তবে তার মতো দুষ্টক্ষত সমাজদেহে আর নেই। বিদ্বান ব্যক্তি শ্রদ্ধাভাজন হলেও চরিত্রহীন বিদ্বান ভয়ংকর। সে লোক সমাজে কখনো সম্মান লাভের যোগ্য হতে পারে না। চরিত্রহীন বিদ্বান তার বিদ্যাকে অন্যায় কাজে লাগিয়ে থাকে। সুতরাং তার চিন্তা-চেতনার সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রবাদ আছে যে, কোনো কোনো বিষধর সাপের মাথায় মণি থাকে। মণি বহু মূল্যবান বটে। কিন্তু তাই বলে মণি লাভের জন্য সাপের সাহচর্য বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তেমনি বিদ্যালাভের জন্য দুর্জনের কাছে গমন বিধেয় নয়। কারণ, দুর্জনের সাহচর্যে নিষ্কলুষ ব্যক্তির চরিত্রও কলুষিত হতে পারে। ফলে মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চরিত্রহীন দুর্জন ব্যক্তির সঙ্গ পরিত্যাগের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। তাই বিদ্বান ব্যক্তি সৎ কি না সেটা অবশ্যই বিবেচ্য; তা না হলে তার সঙ্গ পরিত্যাগ করাই যুক্তিসংগত।

আমাদের সমাজে বিদ্বান ব্যক্তির যেমন অভাব নেই তেমনি দুর্জন ব্যক্তিরও অভাব নেই। আমাদের উচিত হবে চরিত্রবান বিদ্বান ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং তাদের সাহচর্য লাভ করা, অন্যদিকে দুর্জন ব্যক্তিকে সব সময়ই এড়িয়ে চলা।