মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
শ্বেতশুভ্র ইহরাম পরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে একদল শিশু। তাদের মুখে ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের বড় হলদিয়া গ্রামে অবস্থিত রুহামা মডেল অ্যাকাডেমিতে গত বৃহস্পতিবার এমন এক ভিন্নধর্মী দৃশ্যের দেখা মেলে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ব্যতিক্রমী এক বাস্তবধর্মী হজ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
ধর্মীয় শিক্ষাকে চমৎকার ও প্রায়োগিক উপায়ে উপস্থাপন করার এই ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টা স্থানীয় সচেতন মহলেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্রিয়েটিভ আইডিয়াল সোসাইটি পরিচালিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মূলত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতেই এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেয়।
প্রশিক্ষণ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে প্রতীকীভাবে সাজানো হয়েছিল পবিত্র কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া পাহাড়, মিনা, আরাফাহ ময়দান ও মুযদালিফার আদলে। খুদে শিক্ষার্থীরা ইহরামের কাপড় পরে হজের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হাতে-কলমে অনুশীলন করে। তারা কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ, মিনায় অবস্থান, আরাফাতে উকুফ, মুযদালিফায় কঙ্কর সংগ্রহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ (রমি আল-জামারাত), কোরবানি ও বিদায়ী তাওয়াফের মতো হজের আবশ্যকীয় ধাপগুলো বাস্তবে রূপায়ণ করে দেখায়।
খুদে শিক্ষার্থীদের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণ ও উৎসাহ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মাঠে উপস্থিত এক অভিভাবক বলেন, শুধু বইয়ের পাতায় পড়ে হজের নিয়ম শেখা কঠিন। শিশুরা এভাবে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ সম্পর্কে জানতে পারছে, যা তাদের মানসিক ও ধর্মীয় বিকাশে দারুণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মিনহাজুল করিম বলেন, প্রকৃত শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞান, ব্যবহারিক শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়া সম্ভব। শিশুদের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষাকে আনন্দঘন ও বাস্তব উপায়ে ফুটিয়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।



