শিরোপা হারিয়ে রানার্সআপ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

  • ভারত ৩-১ বাংলাদেশ

বিরতির ঠিক আগেই ম্যাচে সমতা আনে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়া একটি দল যখন প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতা আনে তখন তা হয়ে যায় বিরতির পর ম্যাচে ফেরার শক্তি। নারী সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশন নিয়ে গতকাল গোয়া সাফের ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ দল কাল ৪২ মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও ইনজুরি টাইমে সমতা আনেন ঋতুপর্না চাকমা। মনে হচ্ছিল এবার ভারতের মাঠে ভারতকে হারিয়ে সাফ শিরোপা ধরে রাখবে বাংলাদেশ। তা আর হলো না। বিরতির পরপরই আরেক গোল হজম। এরপর ৮৩ মিনিটে তৃতীয়বার বল যায় বাংলাদেশের জালে। ফলে ২০১৬ সালের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি করে ৩-১-এ ম্যাচ জিতে ১০ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো ভারত। আর টানা দুইবারের সাফের সেরারা এবার রানার্সআপ হয়েই দেশে ফিরে আসছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের শিলিগুড়ি সাফেও ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ভারত।

প্রতি ম্যাচেই কোচ পিটার জেমস বাটলার পরিবর্তন আনেন একাদশে। গতকালই তাই। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে মারিয়া মান্ডারা অসহায় আত্মসমর্পণ করলেও কাল কিন্তু শুরু থেকেই দাপটের সাথে খেলা। মাঠের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল লাল-সবুজদের আধিপত্য। কিন্তু গোল মিস তাদের জিততে দেয়নি। ১২ মিনিটে তহুরা খাতুনের ক্রসে বলে পা লাগাতে পারেননি ছোট শামসুন্নাহার। ১৪ মিনিটে তহুরা খাতুন শট নিতে দেরি করে গোলই করতে পারেননি। ২২ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা এবং ৪৪ মিনিটে আনিকার শট গোল না পাওয়ায় হতাশায় পড়–তে হয় সফরকারীদের। ৪০ মিনিটে ফের ব্যর্থ তহুরা। ঠিক এরপরই ৪২ মিনিটে আচমকা গোল ভারতের। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া পাইরি জাজার শট বোকা বানায় মিলি আক্তারকে।

অবশ্য অল্প কিছুক্ষণ পরেই সমতা। তহুরার থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের দর্শনীয় প্লেসিং শটে ভারতের কিপারকে পরাস্ত করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। গত সাফের ফাইনালের মতো এবারো ফাইনালে গোল রাঙ্গামাটির এই মেয়ের। ৪৬ মিনিটে ফের লিড ভারতের। ক্রস থেকে আসা বলে বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডাদের আনমার্কের সুযোগে ফাঁকা হেডে গোল করেন সানফিদা ননগুরুং। বাংলাদেশও চেষ্টা চালাতে থাকে ম্যাচে ফেরার। তকে প্রাপ্ত চান্সগুলো কাজে না লাগায় গোল আর হয়নি। শামসুন্নাহার, মণিকা চাকমা, সাগরিকাদের চেষ্টাগুলো গোল লাইন অতিক্রম করেনি। মারিয়ার শট কোনো মতে গোললাইন থেকে ঠেকান ভারতের কিপার। এরই মধ্যে ৮৩ মিনিটে আবার ভারতের গোলউৎসব। আফঈদা খন্দকারের ক্লিয়ার করতে যাওয়া বল ভারতের ফুটবলারের পায়ে লেগে কম সেরতোর কাছে এলে তিনি বাম পায়ের শটে বল জালে পাঠান।