কেশবপুর (যশোর)সংবাদদাতা
কেশবপুরে জেলে সম্প্রদায়ের জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় প্রতাপ মণ্ডল। গত ৭ জুন বিকেলে উপজেলার পরচক্রা গ্রামের মৃত চিত্ত রঞ্জন মণ্ডলের ছেলে প্রতাপ মণ্ডল পরচক্রা বাজারে তাদের সম্প্রদায়সহ এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ ঘটনায় বিএনপির একপক্ষ জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষে আরেক পক্ষ ঘর দখল কারী ইসমাইলের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন বিদ্যানন্দকাটী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম।
প্রতাপ মণ্ডল লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা পেশায় মৎস্যজীবী এবং পরচক্রা বাজারে নিজেদের জমিতে নির্মিত তিনটি ঘরের ভাড়ার টাকায় তিন পরিবারের ১৭ সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমাদের শরীকরা পৈতৃকসূত্রে পাওয়া ৮৮ নং পরচক্রা মৌজার ৪৪৩ ও ৫৬৮ নং খতিয়ানের ১৪৫২ নং দাগের ৭৫ শতক জমির মধ্যে ৩৭ শতক জমি ভোগ দখল করে আসছেন। ওই জমির দক্ষিণ পাশ থেকে গত বছর অন্য এক শরিক মহারানীর ৮ শতক জমি ক্রয় করেন একই গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন। সে ওই দাগের দক্ষিণ পাশ থেকে জমি ক্রয় করলেও দলিলের চৌহদ্দি না মেনে গত ২০ মে জমির উত্তর পাশ থেকে ৮ শতক জমির দোকান ঘর ভেঙে নতুন করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন। ওই জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেয়াই ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হামলা করে আহত করে। এ বিষয়ে কেশবপুর থানাসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাইনি। ইসমাইল বিশ্বাস টাকার জোরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দেখিয়ে আমাদের জমি দখল করে। এ নিয়ে ওই জমির চার শরিকের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নিরুপায় হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি । পরচক্রা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আরিফ বিল্লাহ বলেন, পৈতৃকসূত্রে পাওয়া ৪৪৩ দাগের ৩৭ শতক জমি তাদের ৪ শরিকরা ভোগ দখল করে আসছে। এ জমির দক্ষিণ পাশ থেকে গত বছর অন্য এক শরিক মহারানীর ৮ শতক জমি ক্রয় করেন একই গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন। সে ওই দাগের দক্ষিণ পাশ থেকে জমি ক্রয় করলেও গত ২০ মে জমির উত্তর পাশ থেকে ৮ শতক জমি জবর দখল করে নেয়। এ নিয়ে ওই জমির চার শরিকের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি নেপাল মণ্ডলের শরিক মহারানী মণ্ডলের কাছ থেকে ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। এ জমি দখলে নিলে বাদি তপন কুমার মণ্ডলসহ অনেকে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, উভয়পক্ষ নিয়ে থানায় বসা হয়েছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায উভয় পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।



