জলঢাকায় হেলে পড়া সেতুটি ৯ বছরেও মেরামত হয়নি

Printed Edition
জলঢাকায় হেলে পড়া সেতুটি ৯ বছরেও মেরামত হয়নি
জলঢাকায় হেলে পড়া সেতুটি ৯ বছরেও মেরামত হয়নি

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর জলঢাকায় বন্যার পানিতে হেলে পড়া একটি সেতু দীর্ঘ ৯ বছরেও মেরামত করা হয়নি। সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় উপজেলার পাঁচটি গ্রামের মানুষকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরভরাট গ্রামে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল এটি। কিন্তু নির্মাণের পরের বছরই, অর্থাৎ ২০১৭ সালের আগস্টে বন্যার পানির স্রোতে সেতুটি একদিকে হেলে পড়ে। এরপর দীর্ঘ দিন স্থানীয় বাসিন্দারা হেলে পড়া সেতুটির ওপর বালুর বস্তা, বাঁশ ও কাঠ ফেলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন। কিন্তু গত বর্ষায় সেই অস্থায়ী ব্যবস্থাটুকুও নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গিয়ে এটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরভরাটসহ পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখন পুরোপুরি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন।

চরভরাট গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম, আরমান আলী ও লুৎফুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটি অকেজো হয়ে থাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ দু’টিই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল জানান, সেতুটি হেলে পড়ার পরপরই তৎকালীন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ৯ বছরেও এটি পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও ত্রাণ কর্মসূচির আওতায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। বন্যার পানিতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে জানানো হয়েছে। জলঢাকা ইউএনও জান্নাতুন ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে সেতুটি দ্রুত মেরামত বা নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’