খই-দইয়ে হোক সকালের নাশতা

Printed Edition

সকালের নাশতা সারা দিনের খাবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মত পুষ্টিবিদদের। তবে সকালের অফিস বেরোনোর তাড়ায় অনেকেই বুঝতে পারেন না, কী খাওয়া উচিত। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাদ্যও খাওয়া হয়ে যায়। এতে সারা দিনটাই শারীরিক অস্বস্তিতে কাটে। এমন অনেক খাবারই আছে, যা আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও আদতে তা নয়। অনেক বাড়িতেই বড়-ছোট, সবাই নিয়মিত দুধ-কর্নফ্লেক্স দিয়ে সকালের নাশতা সারেন। ভারী খাবার চাই, এ দিকে মেদও বাড়বে না- এই সব শর্ত মেনে চলতে গিয়ে অনেকেই কর্নফ্লেক্সকে আপন করে নেন সকালের খাবার হিসেবে। তবে কর্নফ্লেক্সের বিকল্প হিসেবে খই-দুধও খেতে পারেন, এটি দামেও সস্তা।

পুষ্টিবিদরাও সকালের নাশতা হিসেবে খই খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সকালে খই-দুধ খেলে তা হজম করতে কোনো রকম অসুবিধা হয় না। খইতে ভালো মাত্রায় ফাইবার থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য নাশতায় খই খাওয়া উপকারী।

ডায়াবেটিকে আক্রান্তদের জন্যও সকালেও নাশতায় খই-দুধ ভালো বিকল্প। খইয়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই এই খাবারে রক্তের শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায় না। যারা ওজন নিয়ে চিন্তিত, তারাও কিন্তু সকালে পাতে খই-দুধ রাখতে পারেন। এই খাবারটিতে ক্যালোরি কম, ফ্যাট কম অথচ ফাইবার বেশি থাকে। ফলে খই খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরতি থাকে। তাই রোগা হওয়ার ডায়েটেও জায়গা করে নিতে পারে এই খাবার। এ ছাড়া খইতে গ্লুটেন না থাকায় যারা নানা শারীরিক কারণে গ্লুটেন খেতে পারেন না, তাদের জন্যও এটি আদর্শ খাবার হতে পারে।

খইতে রাইবোফ্ল্যাভিন, থিয়ামিন, নায়াসিন এবং প্যান্টোথেনিক অ্যাসিডের মতো বি ভিটামিন রয়েছে, আছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-ও। ত্বকের জন্যও কিন্তু খই খাওয়া উপকারী।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে বিচার করলে খই-দুধ, কর্নফ্লেক্স-দুধ কিংবা ওট্স-দুধে খুব বেশি তফাত নেই। দামে কম হলেও খইয়ের উপকারিতা কিন্তু কোনো অংশেই কম নয়। ইন্টারনেট।