নিজস্ব প্রতিবেদক
দায়িত্বশীল পদে থেকে সরকার বিব্রত হয়-এমন কোনো কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, গণভোট নিয়ে বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার ব্যক্তিগত। এর সাথে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বক্তব্যের দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বায়তুল মোকাররম একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানকার খতিব সরকারপ্রধান নিয়োগ দেন। তাকে সবাই সম্মান করে। এটি একটি ধর্মীয় পদ। এটি কোনো রাজনৈতিক পদ নয়। এখান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য কেউ আশা করে না। এখান থেকে কোনো বক্তব্য যদি কোন দলের বিপক্ষে বা সরকারের বিপক্ষে যায় এটা দুঃখজনক। এটা ঠিক নয়। এ ছাড়া দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কোনো কথা বলা উচিত নয় যাতে জনগণ বিভ্রান্ত হয় ও সরকার বিব্রত হয়। আশা করি উনি এটা অনুধাবণ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। মন্ত্রণালয় ও অধীন দফতর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা করেছি। এর ফলে গত দেড় বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। আমি নিজেকে ৯৫ ভাগ সফল মনে করছি।
হজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় হোটেল ভাড়া সবমিলিয়ে এক হাজার সৌদি রিয়ালের কাছাকাছি কমানো হয়েছে। হজযাত্রীপ্রতি পরিবহন ভাড়া ১০০ সৌদি রিয়াল কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালের হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীরা তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন।
ড. খালিদ বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জন আকাক্সক্ষা ছিল সেটি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এ বছর বিমানভাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টিকে উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রীপ্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। এই প্যাকেজের হাজীদের বাড়িভাড়া ও হোটেল টু হারাম শরিফ যাতায়াত পরিবহন বাবদ ধার্যকৃত টাকা এবং সাশ্রয়কৃত সার্ভিস চার্জ একত্র করে তাদের আবাসন হারাম শরিফের কাছাকাছি এগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলে হাজীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরিফে আদায় করতে পারবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে, দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ হতে ২০তম গ্রেডের ৩২ জনকে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মডেল মসজিদ নীতিমালাও চূড়ান্ত হয়েছে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে উন্নয়ন কাজের কথা উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সেখানে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ওজুখানা সংস্কার, কার্পেট পরিবর্তনসহ নানা উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনে ১৯৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনবল নিয়োগ, জেলা-উপজেলায় ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ নির্মাণ, ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার এবং বিদেশে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন ধর্ম উপদেষ্টা।
এ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা গত দেড় বছরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর-সংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি পেশাদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদেরকেও ধন্যবাদ জানান।
এ সময় ধর্মসচিব মো: কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: আয়াতুল ইসলাম, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।



