তিন জেলায় বজ্রপাতে ৭ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

নওগাঁ, বরিশাল, কুড়িগ্রাম ও নাটোরে গতকাল বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে সাতজন মারা গেছেন।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলার রানীনগরে বজ্রপাতে আক্কাস ফকির (৬০), তারেক (২৫) ও নয়ন তালুকদার (২৬) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার পারইল ইউনিয়নের জাঠাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আক্কাস ফকির পারইল গ্রামের মৃত আযাদ ফকিরের ছেলে ও তারেক একই গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে। নয়ন তালুকদার ওই উপজেলার গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের হাসেম তালুকদারের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে আক্কাস ফকির ও তারেক জাঠাইল মাঠে কৃষিকাজ করতে যান। দুপুরে হঠাৎ করে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে দু’জনই মারা যান। এ ছাড়া একই সময় নয়ন তালুকদার গুয়াতা মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।

রানীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হন্তান্তর করা হয়েছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালের গৌরনদীতে বজ্রপাতে পান বরজের দু’জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরো এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ভীমেরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: তৌকির আহমেদ জানিয়েছেন, মৃত অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে আনা হয়। নিহতরা হলেনÑ ভীমেরপাড় গ্রামের মৃত আবু তালেব হাওলাদারের ছেলে আলিম হাওলাদার ও উজিরপুরের খাটিয়ালপাড়া গ্রামের মুকুন্দ বালার ছেলে সুকান্ত বালা। একই সাথে হাসপাতালে আনা আহত দেওপাড়া গ্রামের জীতেন সরকারের ছেলে গোপাল সরকারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেলা ২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে হতাহতরা পানবরজের পাশের একটি ছাউনিতে আশ্রয় নেয়। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যায় এবং গোপাল গুরুতর আহত হন।

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, জেলার লালপুরে ইটভাটায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে এসকেন আলী ভোলা (৬০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শাপলা খাতুন (৩০) ও সুফিয়া (৫০) নামের দুই নারী আহত হন।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সিরাজীপুর এলাকায় সুপার ইটভাটায় কাজ করার সময় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত এসকেন আলী ভোলা উপজেলার বালিতিতা গ্রামের মৃত আদুর ছেলে। আহত শাপলা খাতুন জোতদৈবকি এলাকার ফিরোজ শেখের স্ত্রী ও সুফিয়া খাতুন পলানের স্ত্রী।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলার চিলমারীতে পুকুরের মাছ দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে রফিকুল ইসলাম (৩৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বজরা তবকপুর এলাকার মজাই ডাঙায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম ওই এলাকার নুরজামালের ছেলে। জানা গেছে, সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ দেখতে যান রফিকুল ইসলাম। এ সময় হঠাৎ করে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।