যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল

২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

Printed Edition

যশোর অফিস

যশোরে আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল থেকে গত ২২ বছরে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু স্বল্প খরচে চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু বহির্বিভাগ ও এক লাখ ১৫ হাজার শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা পায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে সেবা নিতে আসে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শিশু হাসপাতালটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া হাসপাতালটি বাণিজ্যিক চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। যার সুফল পেয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু এখানে এসে বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে এবং এক লাখ ১৫ হাজার রোগীকে ইনডোরে ভর্তি রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে।

আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কথা হয় সেবা গ্রহণ করতে আসা যশোর শহরের পুলিশ লাইন এলাকার রাবেয়া সুলতানা লাইবার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বেবিদের নিয়ে আমি যশোরে অন্য হাসপাতালে গিয়ে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এনেছি। এখানে সাশ্রয়ী খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়েছি।’ লুৎফুন্নাহার মঞ্জু নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূর জমজ সন্তান হয়েছে। এদের যে আমি পাবো এমন কল্পনা করতে পারিনি। সাত মাসের গর্ভে এদের একজনের ওজন হয়েছিল এক কেজি তিন গ্রাম আরেকজনের এক কেজি পাঁচশ’ গ্রাম। আমরা শিশু আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আনার পর তারা এখন স্বাভাবিক।’

মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া থেকে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার জমজ নবজাতক। ১৮ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। বাচ্চারা এখন সুস্থ।’ ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নিলা খাতুন বলেন,‘আমার সন্তান শ^াসকষ্টে নীল হয়ে যাচ্ছিল। এখানে চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।’ হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতার প্রশংসার করেন তিনি।

হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সেবার মান ধরে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা প্রযুক্তি। কম ওজনের নবজাতকের চিকিৎসায় সাতটি উন্নত ইনকিউবেটর সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা নিজস্ব ফার্মেসি, নির্ভুল রিপোর্টের জন্য আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবসহ রয়েছে চমৎকার ওয়ার্ড ও কেবিন সুবিধা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কম খরচে বিশ্বস্ত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হয় এখান থেকে। সেবা নিতে আসা লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেই যান, এটিই আমাদের অর্জন।’