আলি জামশেদ, বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল জব্দের পর দীর্ঘদিন ধরে গুদামে পড়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার কারপাশা ও জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ বিতরণের জন্য তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড বিতরণ করা হয়। তবে শুরু থেকেই এসব তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনেক কার্ডধারী অভিযোগ করেন, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা বরাদ্দের চাল পাননি।
কারপাশা ইউনিয়নে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয়দের চাপ ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে অনিয়মের অভিযোগে ৭০ বস্তা চাল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই চাল দীর্ঘদিন মেঝেতে পড়ে থাকায় এখন গুণগত মান নষ্টের ঝুঁকিতে রয়েছে।
অন্য দিকে জারইতলা ইউনিয়নে তিন হাজার ৭০০ জনের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৭ হাজার কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে তিন হাজার ৩০০ কেজি চাল অনিয়মের অভিযোগে জব্দ করা হয়। ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ মনির জানান, নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চাল জব্দ করা হয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ কক্ষে তালাবদ্ধ রাখা হয়। তবে দুই ইউনিয়নের জব্দকৃত চালের বিষয়ে দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তা জানান, জব্দকৃত চাল এতিমখানায় দেয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জ সোহানা নাসরিন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



