একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

অনিয়মে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেন রিহ্যাব নেতারা  : পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেন রিহ্যাব নেতারা : পিএমও

বিশেষ সংবাদদাতা

একনেক সভায় আটটি প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেজুয়া এলাকা রক্ষায় প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পটি পর্যবেক্ষণসহ ফের পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। পর্যবেক্ষণগুলো বিবেচনায় নিয়ে আগামী সভায় প্রকল্পটি নতুন করে উপস্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এ দিকে সভায় খুলনা শিপইয়ার্ডের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট উপস্থাপিত হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এসব নিদের্শনা দেন। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প তিনটি ও সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি। আট প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ তিন হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সভা শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, মেঘনা নদীর ভাঙন রোধের প্রকল্পটি আরো যাচাই করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়নি।

দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মে কঠোর অবস্থান : সরাসরি তদন্তের নির্দেশ

প্রতিমন্ত্রী সাকি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং অপ্রয়োজনীয় খাত চিহ্নিত করে অপচয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছে একনেক। সম্প্রতি খুলনার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন সভায় পেশ করা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, বেশ কিছু চলমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া আইএমইডির সাম্প্রতিক রিপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি হচ্ছে। এগুলো সম্পন্ন হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি হবে।

দর তালিকা পুনর্বিন্যাস

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, এলজিইডি বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব আলাদা দর তালিকা বা ‘রেট শিডিউল’ রয়েছে। তবে বর্তমান রেট শিডিউল নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈঠক করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, খুব দ্রুতই রেট শিডিউলগুলো পর্যালোচনা করে সাধারণ ও বিশেষ কাজের জন্য নতুন রেট শিডিউল তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেই নতুন শিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন করা হবে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এডিপি বাস্তবায়নে জোর

অর্থনীতির গতি ফেরাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ অল্প দিনের হলেও নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রস্তাবিত সবুজ পাতার প্রকল্পগুলোর ‘রিস্কোপিং’

নির্বাচনী ইশতেহার ও পাঁচ বছর মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলমান ও প্রস্তাবিত সবুজ পাতার প্রকল্পগুলোর ‘রিস্কোপিং’ (অঙ্গ সংযোজন-বিয়োজন) করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৮০ দিনের সময়সীমা ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, আইএমইডি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ও অটোমেশনের কাজ শেষ করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এডিপির সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে নতুন বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র তৈরি হবে।

আট অনুমোদিত প্রকল্প

প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, একনেক সভায় উপস্থাপিত ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় খাত চিহ্নিত করে ব্যয় কমানো, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কাজের গতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) ১ম সংশোধন, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন), ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (২য় সংশোধন), বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প সিলেট বিভাগ (৩য় সংশোধন) এবং বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধন) প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে রিহ্যাব প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

দেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এ উপলক্ষে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু), এমপিসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, রিহ্যাব সরকার স্বীকৃত দেশের একমাত্র আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, আবাসন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং জিডিপিতে এ খাতের ১৫% অবদান রয়েছে। পাশাপাশি সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার, পরিবহনসহ ৩০০-এর বেশি লিংকেজ শিল্প আবাসন খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে-

১। পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন ।

২। নি¤œ ও নি¤œ-মধ্যবিত্তের জন্য পিপিপি ভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি।

৩। মধ্যবিত্তের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং লোন চালু।

৪। নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও কর কাঠামো যৌক্তিকীকরণ।

৫। জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার।

০৬। পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন।

ড. আলী আফজাল প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রিহ্যাব সবসময় সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রার দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করতে আগ্রহী। এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরো গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্তের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো: বরকাতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো: হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো: লিয়াকত আলী খান, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো: রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মো: জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম এবং এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার উপ প্রেসসচিব হাসান শিপুল।

তিনি জানান, ‘বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের কর্মজীবনের সাফল্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, সমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে নিয়ে মধ্যহ্ন ভোজ করেন।

২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ভাইস অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন নেতদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে দেশের বস্ত্রশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রফতানি সম্ভাবনা এবং এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

বৈঠকে টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রশিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চান। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্রশিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে বলেও জানান উপ-প্রেসসচিব।

এ সময়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সহসভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া ছাড়াও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

দেশের পোশাক শিল্পের বিকাশের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা তাদের শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাবনাও উপস্থাপন করেন।