ক্রীড়া প্রতিবেদক
হয়ে গেল বহুল কাক্সিক্ষত-প্রতীক্ষিত, আলোচনা-সমালোচনার বিসিবির নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে আলোকসজ্জা-ব্যানার-ফেস্টুনে সেজেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পরিবেশ যেমনই থাকুক না কেন, নির্বাচনের ফল ছিল অনেকটাই অনুমিত। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল ৭৪ ভোটের মাঝে ৭৩ ভোট পেয়ে হয়েছেন বোর্ড পরিচালক। বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হলেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। সহসভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা।
আট মাসের মধ্যে দু’বার হলো বিসিবি নির্বাচন। গত বছরের অক্টোবরে আমিনুল ইসলাম বুলবুল হয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। সহসভাপতি হয়েছিলেন ফারুক আহমেদ ও শাখাওয়াত হোসেন। গত ৭ এপ্রিল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পর তামিমকে করা হয়েছিল অ্যাডহক কমিটির প্রধান। এবার তিনিই হলেন বিসিবি সভাপতি।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলেছে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। পাশাপাশি সীমিত চলাচল ছিল। সকাল থেকে কাউন্সিলর ও বোর্ডের পরিচালক পদপ্রার্থীরা মিরপুরে আসতে শুরু করেন। দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন এসব জেলা-বিভাগের প্রতিনিধিরা। ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিরাও এসেছেন সকালে। যদিও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া পরিচালকদের প্রায় অর্ধেকই আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুবাদে ফল জেনে গেছেন। বিসিবির এই নির্বাচন শুরু থেকেই ছিল উত্তাপহীন। সকালে ৩৫ মিনিট পর পড়েছে প্রথম ভোট।
তামিম ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১২ পরিচালক। অন্যরা হলেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (৭২ ভোট), ইসরাফিল খসরু (৭২ ভোট), মাসুদুজ্জামান (৭০ ভোট), ফয়সাল ইয়াসির (৬৮ ভোট), ফাহিম সিনহা (৬৬ ভোট), শানিয়ান তানিম (৬৬ ভোট), সাকিফ আহমেদ (৬৫ ভোট), আসিফ রব্বানি (৬৪ ভোট), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (৬৩ ভোট), রফিকুল ইসলাম বাবু (৫৩ ভোট), ডা: শামীম (৪১ ভোট)। এই ক্যাটাগরিতে প্রার্থী ছিলেন ১৬ জন। হেরে যাওয়া চারজন হচ্ছেন বোরহানুল পাপ্পু (৪০ ভোট), আমজাদ হোসেন (৩২ ভোট), ফৈয়াজুর মিতু (২৩ ভোট), মেজর (অব:) ইমরোজ আহমেদ (২০ ভোট)। আমজাদ ও মিতু আগের বোর্ডের পরিচালক ছিলেন।
বিসিবি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আমেজ হারিয়েছে আগেই। ঈদের আগে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিন প্রার্থী। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ক্যাটাগরি-১ এর ১০টি পদের মধ্যে সাতজনই বিনা বাধায় নির্বাচিত হন। শুধু খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের মুন্তাসির আলমকে পরাজিত করে বিসিবির নতুন পরিচালক হয়েছেন বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান। খুলনা বিভাগের দু’টি পরিচালক পদের জন্য লড়েছেন তিনজন প্রার্থী, যার মধ্যে শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে হয়েছেন বিসিবির সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। আর ক্যাটাগরি-৩ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিমের ফুফা।
রাজনৈতিক বোর্ড নিয়ে মুখ খুললেন তামিম
যদিও বিসিবি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। আইসিসির নীতিমালা অনুযায়ীও এখানে সরকার বা রাজনৈতিক পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এবার বিসিবিকে রাজনৈতিক বোর্ড বলার বিষয়ে মুখ খুললেন তামিম ইকবাল।
তামিমের নেতৃত্বেই গত ২ মাস বিসিবি পরিচালনা করেছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। তামিম বলেছেন, ‘বোর্ডটি রাজনৈতিক কি না- এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলব, এটি একটি নির্বাচন। আপনার যদি দেয়ার মতো কিছু থাকে, তাহলে আপনি সবসময় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।’
নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তামিম। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুতেই তিনি বা বোর্ডের কেউ যুক্ত ছিলেন না। ‘এই নির্বাচনে আমি একজন মানুষকেও ফোন করিনি। কাউকে অনুরোধও করিনি। আর যদি তা করতাম, তাহলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যেত। কারণ এটি আমার দায়িত্ব নয়। আমি নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে তুলে দেয়ার পর থেকেই তারা বিষয়টি দেখভাল করছে।’



