রয়টার্স
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই জোটের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে সঙ্ঘাতের বিপরীত মেরুতে থাকা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোটে পরবর্তী সময়ে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয় আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান চায় ব্রিকস যেন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানায়। এ লক্ষ্যে তেহরান ২০২৬ সালের ব্রিকস চেয়ারম্যান ভারতকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। তবে জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য স্পষ্ট, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাত এই সঙ্ঘাতে ইরানের বিপক্ষে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। এই পরিস্থিতি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আজ ১৪ ও আগামীকাল ১৫ মে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর চলায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত থাকছেন না। চীনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।
ভারতের জন্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ভারতের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। একদিকে ইরানের সাথে ভারতের জ্বালানি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথেও দিল্লির কৌশলগত সম্পর্ক গভীর। এই অবস্থায় ভারত কিভাবে ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং কোনো যৌথ বিবৃতি আসবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রিকস যদি এই সঙ্কটে অভিন্ন অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়, তবে বৈশ্বিক বিকল্প শক্তি হিসেবে জোটটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।



