বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো

Printed Edition
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউটে ওঠার আনন্দ করছেন মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা : ইন্টারনেট
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউটে ওঠার আনন্দ করছেন মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা : ইন্টারনেট

ভাগ্য যখন সহায় হয়, তখন নানাভাবেই গোলের দেখা পাওয়া যায়। বহু অপ্রত্যাশিত গোল প্রত্যাশার ভাণ্ডারে জমা হয়। তেমনই এক ভাগ্য এখন ভর করেছে মেক্সিকোর ওপর। তা না হলে এমন গোল তারা কিভাবে পায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ১-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এই জয় সবার আগে এবারের আসরের নক আউটে বা সেরা ৩২-এ নিয়ে গেছে মেক্সিকোকে।

দুই দলই আগের ম্যাচে জয় পেয়েছিল। ফলে মেক্সিকোর গুয়াদালহারা স্টেডিয়ামে যে দল জিতবে, তাদেরই নিশ্চিত হবে নক আউট রাউন্ডে খেলা। গ্রুপ ‘এ’-এর এই ম্যাচে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। গোলের সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। তবে ম্যাচের এক মাত্র গোলটি হয়েছে ভাগ্য গুনে। উড়ে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিতে যান কোরিয়ার গোলরক্ষক কি সিউং গুয়ে। তিনি লাফিয়ে বল আয়ত্তেও নেন। তবে এরপর মাটিতে পড়ার সময় সেই নিজ দলের ডিফেন্ডার লি কুই হুকের মাথার গুঁতা লাগে বলে। ফলে বল হাত ফসকে বেরিয়ে যায় গিয়ে পড়ে মেক্সিকোর লুইস রোমোর সামনে। ব্যাস আর কথা নেই। সেই বলে রোমোর ডান পায়ের ভলি। বলের আশ্রয় সোজা জালে।

তিন স্বাগতিকদের একটি এই মেক্সিকোর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন গোলরক্ষক রাউল রেঞ্জেল। যেভাবে ইনজুরি টাইমের শেষ সময়ে একই খেলোয়াড়ের যে দু’টি দুর্দান্ত সেভ করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ। বাম দিক থেকে বক্সে ক্রস ভাসান দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়। সেই বলে কোরিয়ার অপর ফুটবলার টোকা দেন। মেক্সিকান কিপার সে বল হাঁটু দিয়ে ঠেকান। এর পরও বল ভাসছিল গোললাইনের ওপর। অন্য কোরিয়ান ফুটবলার ছুটে আসছিলেন বলটি জালে পাঠানোর জন্য। কিন্তু মাটিতে পড়া রেঞ্জেল দ্রুত ওই অবস্থান থেকে কোনো মতে অর্ধেক পর্যন্ত উঠে হাত দিয়ে সরিয়ে দেন বল। ফলে সমতাসূচক গোল আর করা হয়নি কোরিয়ার ফুটবলারটির। ৭৪ মিনিটে মেক্সিকোর আরেকটি প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় কর্নার করেন কোরিয়ান কিপার।

৮৭ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় কোরিয়া। বাম দিক থেকে বিপজ্জনক ক্রস করেন কোরিয়ার ফুটবলার। সেই বলে প্রথমে হেড নেন তাদের ফরোয়ার্ড। বল কিপারের পায়ে লেগে প্রতিহত। সেই বল আবার গিয়ে পড়ে দলের মূল স্ট্রাইকারের সামনে। এবার তিনি শোয়া অবস্থায় সেই বলে লাথি মারেন। কিন্তু মেক্সিকান কিপার মাটিতে পড়া থেকে উঠে কোনো মতে হাত লাগিয়ে বলকে সরিয়ে দেন। যে কারণে ছুটে আসা অপর কোরিয়ার ফুটবলারও বলের নাগাল পাননি।

মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ার আগুইরে যে কৌশলে খেলিয়েছেন, তাতে বিরতির পর তিনটি খেলোয়াড় বদলই জিততে সহায়তা করেছে। আর প্রথম দুই ম্যাচের দু’টিতে জিতে নকআউট পর্বে জায়গা পাওয়ায় চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে মেক্সিকানদের গ্রুপের শেষ ম্যাচটি এখন নিয়মরক্ষার। তবে হারলেও আশা ফুরিয়ে যায়নি এশিয়ান জায়ান্টিদের। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলে তো কথাই নেই। ড্র করলেও নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালো দক্ষিণ কোরিয়ার।