স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বহালের দাবি খেলাফত মজলিসের

প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ আখ্যা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া মন্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং অপরাধ দমনে জনগণের প্রত্যাশাকে অবমূল্যায়ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি ধর্ষণসহ সব জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ঢাকার সদস্যদের এক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতার পরিচায়ক। দীর্ঘ দিন দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে তিনি হয়তো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন, বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত জনমনের আকাক্সক্ষা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছেন না। প্রচলিত বিচারব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে অপরাধ দমনে ব্যর্থ হওয়ায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশা আসলে সমাজের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের প্রতিফলন। কঠোর শাস্তির দাবিকে ‘মধ্যযুগীয়’ আখ্যায়িত করা কোনো সমাধান নয়। যারা মদিনার সনদের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেন, তাদের বক্তব্যে সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।

বৈঠকে সম্প্রতি ‘বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। বিচারকদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়াদি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলে অধস্তন আদালতের স্বাধীন বিচারকার্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির ঘটনায় আইনজীবী সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নেতারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সাথে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারক সঙ্কট নিরসন, মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজলভ্য ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান।

মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক ও মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা ও মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদ খান প্রমুখ।