মিরসরাইয়ে প্রস্তুত ৬০ হাজার কোরবানির পশু

Printed Edition
মিসরাইয়ের একটি খামারে পালিত হওয়া  কোরবানির পশু :  নয়া দিগন্ত
মিসরাইয়ের একটি খামারে পালিত হওয়া কোরবানির পশু : নয়া দিগন্ত

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক খামারি এবং প্রায় ১০ হাজার প্রান্তিক কৃষক মিলে এবার ৬০ হাজার ৩০০টি পশু প্রস্তুত করেছেন। চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত থাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতেও সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার মিরসরাইয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৫৩ হাজার ৮০০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৬০ হাজার ৩০০টি পশু, যা গত বছরের তুলনায় তিন হাজার ৩০০টি বেশি। প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে গরু ৩৮ হাজার ৪১টি, ছাগল ১৫ হাজার ৫৪২টি, মহিষ ৩ হাজার ২৭৮টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৪৬৯টি।

কেনাবেচার সুবিধার্থে পুরো উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৩১টি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। খামারিরা জানান, সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া দামে খাদ্য কিনে তারা পশু মোটাতাজা করেছেন। তবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে গরু এলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কিত। বাইরের গরু যেন স্থানীয় বাজারে ঢুকতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।

উপজেলার বড় খামারগুলোর মধ্যে অন্যতম নাহার ডেইরি এগ্রো। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ তানজিব জাওয়াদ রহমান বলেন, এবার আমরা চার শতাধিক গরু প্রস্তুত করেছি। এক হাজার কেজি ওজন পর্যন্ত গরু আমাদের সংগ্রহে রয়েছে। সরাসরি পরিদর্শনের পাশাপাশি অনলাইনেও বুকিং চলছে।

মিরসরাইয়ের বেশ কিছু খামারে এবার ওজন মেপে বা লাইভওয়েট পদ্ধতিতে গরু বিক্রি হচ্ছে। আরবিসি এগ্রো খামারের ম্যানেজার রাশেদ নুর জানান, তাদের খামারে ৩০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের গরু প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং এর বেশি ওজনের গরু ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মহিষ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি (লাইভওয়েট) দরে।

অন্য দিকে প্রান্তিক চাষিরাও পিছিয়ে নেই। দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার চাষি আলা উদ্দিন জানান, চাষাবাদের পাশাপাশি এবার তিনটি গরু প্রস্তুত করেছেন তিনি, যেগুলোর সম্ভাব্য দাম এক লাখ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকিরুল ফরিদ বলেন, উপজেলার পাঁচ শতাধিক খামারি ও ১০ হাজার প্রান্তিক কৃষককে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এবার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু মজুদ রয়েছে। বাইরের দেশ থেকে গরু না এলে খামারিরা নিশ্চিতভাবে লাভবান হবেন।