গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) । দেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংস ফর ইনোভেশন (উরি) র্যাংকিং ২০২৬-এর “অর্থনৈতিক উন্নয়নমুখী প্রযুক্তি হস্তান্তর (ফিনান্সিয়াল ইমপ্যাক্ট-ড্রাইভেন ট্রান্সফার টেকনোলজি)” ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গৌরবময় ২৩তম স্থান অর্জন করেছে। একইসাথে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ইনোভেটিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও স্থান করে নিয়েছে গাকৃবি। বৈশ্বিক এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৪৭০তম। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গাকৃবিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যা এ অনবদ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে। গত ৭ তারিখে উরি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ র্যাংকিং প্রকাশ করে। বিশ্বের উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়নের জন্য মোট ২৪টি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরি মূল্যায়ন করা হয় ‘উদ্ভাবনী ধারণা, বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং বাস্তব প্রভাব’ এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে। তবে আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে গাকৃবির এই ধারাবাহিক সাফল্য নতুন নয়। এর আগে উরি র্যাংকিং ২০২৫-এ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে অবদান রাখা বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাকৃবির অবস্থান ছিল ৭৭তম। একই র্যাংকিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৪০০ ইনোভেটিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় গাকৃবির অবস্থান ছিল ৩৩১তম, যা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) র্যাংকিং ২০২৫ ও ২০২৬-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতেও দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এরমধ্যে টিএইচই ২০২৫-এর লাইফ সায়েন্স ক্যাটাগরিতে দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে গাকৃবি। পাশাপাশি ২০২৫ ও ২০২৬ সালের টিএইচই এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও শীর্ষে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অন্যদিকে, কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাসটেইনেবিলিটি র্যাংকিংস ২০২৬-এও দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
র্যাংকিং বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘আজকের এই অর্জন শুধু গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। সীমিত সম্পদ, অসংখ্য চ্যালেঞ্জ আর নীরব সংগ্রামের মধ্যেও আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ যে স্বপ্ন দেখেছেন, নিরলস পরিশ্রম করেছেন, বিশ্ব আজ সেই শ্রম ও মেধাকেই সম্মান জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, “গবেষণাকে মানুষের জীবনের সাথে যুক্ত করে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি সেই পথচলাকে আরো সুদৃঢ় করবে।”



