ধানমন্ডিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের বারান্দা থেকে স্বামী তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

নিহতের ভাই মোজাম্মেল হক জানান, প্রায় তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে মো: শাফিউল্লাহর সাথে আমার বোনের বিয়ে হয়। শাফিউল্লাহর আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি আমার বোন জানতেন না। বিয়ের পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো। পেটব্যথাজনিত সমস্যায় তিন দিন আগে ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার স্বামী ভর্তি করে। শুক্রবার তাকে ছাড়পত্র দেয়ার কথা ছিল, হাসপাতালের কেবিনে আসমা ও তার স্বামী একসাথে ছিলেন পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাফিউল্লাহ আসমাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। আমাদের বাসা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকার হায়দার আলীর মেয়ে। তিনি আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মা ছিলেন।

ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুলি মণ্ডল জানান, আমরা জানতে পেরেছি নিহত আসমা আক্তার পরিবারের অভিযোগ এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয় তার স্বামী তাকে ধাক্কা দিয়ে উপর থেকে নিচে ফেলে মেরে ফেলেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগর এলাকার একটি ভবন থেকে নিচে পড়ে মনিকা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। আফতাবনগরের ই-ব্লকের ২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তার লাাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, শুক্রবার বিকেলে আটতলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন মনিকা আক্তার। পরে আমরা খবর পেয়ে আফতাবনগরের ই-ব্লকের ২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করি। নিহত মনিকা মানসিক হতাশা থেকে শুক্রবার বিকেলে আটতলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের বোন মমিনা জানান, আমার বোন মনিকা দীর্ঘ দিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন ও আগের দিন তার স্বামী জমিজমা সংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়িতে যান। মনিকার স্বামী লিটন মিয়া ওই ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারসহ ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন।