ক্রীড়া ডেস্ক
ইউরোপিয়ান ফুটবলের মঞ্চে আবারো নিজেদের আধিপত্যের জানান দিলো প্যারিস সেন্ট জার্মেই। টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। পরশু রাতে মিউনিখের আলিয়ানস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে তাদের প্রতিপ আর্সেনাল।
প্রথম লেগে প্যারিসে ৫-৪ ব্যবধানে জয়ের পর আত্মবিশ্বাস নিয়েই জার্মানিতে পা রাখে লুইস এনরিকের দল। ম্যাচের শুরুতেই সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়। খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় জর্জিয়ান উইঙ্গার খাবিচার দুর্দান্ত দৌড় ও নিখুঁত পাস থেকে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বলে। তার জোরালো ফিনিশে দুই লেগের ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-৪।
শুরুতেই গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বায়ার্ন। যদিও বলের দখল ও আক্রমণে তারা ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করে; কিন্তু পিএসজির সংগঠিত রণভাগ, বিশেষ করে অধিনায়ক মারকুইনহোসের নেতৃত্বে গড়া ডিফেন্স বারবার হতাশ করে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের।
প্রথমার্ধে কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও ুব্ধ ছিল বায়ার্ন। ডি-বক্সে পিএসজির মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগলেও পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন রেফারি জোয়াও পিনেইরো। এ ছাড়া নুনো মেন্দেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না দেখানো নিয়েও ােভ প্রকাশ করেন স্বাগতিকরা।
তবে সুযোগ একেবারে পায়নি, এমন নয়। জামাল মুসিয়াল ও মাইকেল ওলিস কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তুললেও পিএসজির গোলরক মাতভেই সাফোনোভ গোল পোস্ট আগলে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। অন্য দিকে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণে আরো কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় পিএসজি; কিন্তু অভিজ্ঞ গোলরক ম্যানুয়েল নুয়ের কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে বায়ার্নকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে কিছুটা নাটকীয়তা ফেরান হ্যারি কেন। যোগ করা সময়ে গোল করে ব্যবধান কমান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এটি ছিল চ্যাম্পিয়ন লিগে টানা সপ্তম ম্যাচে তার গোল। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল বায়ার্নকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এনে দিতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে পিএসজির তরুণ ফরোয়ার্ড ডেজিরে দুয়ে বলেন, ‘এটি ছিল অসাধারণ এক ম্যাচ। ছোটবেলা থেকে এমন রাতের স্বপ্ন দেখেছি। এখন আমরা দল হিসেবে এই মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।’
অন্য দিকে হতাশ হলেও প্রতিপরে শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব কাছাকাছি লড়াই করেছি; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত একটি দলের বিপে হেরে গেছি।’
এখন সব নজর ৩০ মে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের দিকে। গত মৌসুমে ইন্টাার মিলানকে উড়িয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। এবার আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ফরাসি জায়ান্টরা।



