নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য হতে হবে গণমুখী। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে আমাদের সংসদ সদস্যদের বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে ঢাকার আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি : সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগ এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্বকারী ৭৭ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশের প্রাক্কালে সংসদ সদস্যদের অর্থনৈতিক ও জননীতি বিষয়ক জ্ঞান ও সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তারা সংসদীয় রীতিনীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের আরো দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি : সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ বিষয়ক বিশেষ সেশনগুলোতে দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংসদ সদস্যরা কীভাবে জাতীয় বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংসদে জনদাবিগুলো যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
সমাপনী অধিবেশনে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে সংসদ সদস্যদের মহান জাতীয় সংসদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কর্মশালার শেষ হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক : তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
গত শুক্রবার রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমিরের নেতৃত্বে জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন, সংগঠনের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো: সেলিম উদ্দিন এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠককালে তারা ভ্রাতৃপ্রতিম উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেয়া হয়। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। এ ছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নানা সঙ্কট মোকাবেলায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়েও তারা ঐকমত্য পোষণ করেন। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উপনীত হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এবং তার সরকারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেছি। তুরস্ককে বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করার জন্য আমরা তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছি। আমরা বেশ কয়েকটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে তাদেরকে অনুরোধ করেছি। প্রথমত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে। এটার একটা যৌক্তিক সমাধানের জন্য তারা যেন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের জন্য তারাই সর্বোচ্চ অনুদান দিয়ে চলছেন এবং প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত আছেন, ছেড়ে যাননি। এজন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এরপরে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে আমাদের চামড়া, পাট ও গার্মেন্ট শিল্প, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এসব বিষয়ে আলোচনা করেছি। একই সাথে বাংলাদেশে আইনের শাসন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন, ব্যাংক বীমার ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বন্ধ করা এবং বিচারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এসব বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে করণীয় কিছু থাকলে সেটাও তারা যাতে পালন করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি।



