হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেছেন, আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টা রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে হজযাত্রীদের সেবা দিচ্ছি। এটি একটি সমন্বিত টিমওয়ার্কের ফল, যেখানে সরকার, মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি এজেন্সিগুলো একসাথে কাজ করছে। নয়া দিগন্তকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাব মহাসচিব এ কথা বলেন। নিচে তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত- বিবরণ তুলে ধরা হলো :
প্রশ্ন : হজযাত্রীদের সেবায় হাবের বর্তমান কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে?
ফরিদ আহমেদ : সরকারের পাশাপাশি হাব হজযাত্রীদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ২৪ ঘণ্টা রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে হাজীদের সেবা দিচ্ছি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হজ ক্যাম্প পর্যন্ত লাগেজ পরিবহনসহ সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটি একটি সমন্বিত টিমওয়ার্ক- এখানে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি এজেন্সিগুলো একসাথে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি সুশৃঙ্খল ও সফল হজ উপহার দিতে পারব।
প্রশ্ন : ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে?
ফরিদ আহমেদ : এ বছর হজ ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, যা আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব সরকারের নীতিমালায় পরিবর্তনের কারণে তাঁবু বরাদ্দ পদ্ধতিতে বড় রদবদল হয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের তাঁবু একসাথে মিশনের মাধ্যমে বরাদ্দ নেয়া যেত, এখন বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে আলাদাভাবে তাঁবু সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে একই গ্রুপের হাজীরা একসাথে থাকতে পারছেন না। পাশাপাশি মোয়াল্লেম, ক্যাম্প অপারেটর ও ক্যাটারিং সার্ভিসেও ভিন্নতা সৃষ্টি হচ্ছে যা ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন : তাঁবু বরাদ্দ নিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এজেন্সিগুলো?
ফরিদ আহমেদ : অনেক এজেন্সি প্রথমে তাঁবু বুকিং করেও পরে তা বাতিল হয়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়েছে। এরপর পুনরায় বরাদ্দ নিতে গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তাঁবু নিতে হয়েছে। এতে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়ছে এবং হাজীদের ভোগান্তির শঙ্কাও বাড়ছে।
প্রশ্ন : নিবন্ধন ও ডেডলাইন সংক্রান্ত কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল কী?
ফরিদ আহমেদ : অবশ্যই ছিল। এ বছর বিভিন্ন ডেডলাইন অনেক আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ হজযাত্রী গ্রামাঞ্চল থেকে আসেন এবং তারা সাধারণত শেষ সময়ে নিবন্ধন করতে অভ্যস্ত। ফলে আগাম অর্থ সংগ্রহ ও নিবন্ধন সম্পন্ন করা এজেন্সিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে ইতিবাচক দিক হলো- বেশির ভাগ এজেন্সি আন্তরিকতার সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছে।
প্রশ্ন : হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ফরিদ আহমেদ : বর্তমান সরকার হজ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধান, জাতীয় হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আয়োজন এবং নিয়মিত হজ ক্যাম্প পরিদর্শন- এসব উদ্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরো গতিশীল করেছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ মন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে হাজীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন, এমনকি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সহায়তা প্রদান করছেন, যা সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন : হজ ব্যবস্থাপনায় আর কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
ফরিদ আহমেদ : একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার। এসব তথ্য হাজী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে আমরা সরকারকে আরো সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাই।
প্রশ্ন : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ফরিদ আহমেদ : আমরা হজ এজেন্সিগুলো সরকারের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরো উন্নত, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে বদ্ধপরিকর। সর্বোপরি, আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।



