ক্রীড়া প্রতিবেদক
সব ঠিক থাকলে আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ক্রিকেটাঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের শেষ ছিল না। তামিম ইকবাল নির্বাচনের মাঝপথে সরে দাঁড়ান। শেষমেশ সেই নির্বাচন থেকে গঠিত বোর্ড টিকতে পারেনি বেশি দিন। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি আয়োজন করেছে নতুন নির্বাচনের। যদিও তামিম দাবি করলেন, নির্বাচনের কোনো অংশেই এখন আর বোর্ডের প্রভাব নেই। পুরোটাই পরিচালিত হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। আর বিসিবির বর্তমান কমিটির কেউই তদবির বা অনুরোধের চেষ্টা করছেন না, বজায় থাকছে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ। অথচ অ্যাডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ করছেন না তামিম।
পরিচালক পদে লড়তে যাওয়া সাবেক এই অধিনায়ক গতকাল বিকেলে হঠাৎ করে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন ও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। ‘ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয়তা কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে সেটাই যথেষ্ট নয়। আমার একটা সুবিধা থাকবে, এটা অস্বীকার করব না। সুবিধা কাজে আসবে না যখন এটা ভোটিংয়ে আসে। আমাকে ওইভাবে ভোটারদের সাথে মিশতে হবে, বুঝাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমি কী ভাবি এবং আমার পরিকল্পনা কী। নির্বাচনে অংশ নেয়া মানে শুধু পরিচিত মুখ হওয়া নয়, বরং ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা ও ভাবনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। ভোটারদের গিয়ে বলতে হবে আমি কী করতে চাই বা চাই না। আমার ল্যটা তাদের সাথে শেয়ার করতে হবে।’
প্রশাসনকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন তামিম
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতেই নিজেকে প্রশাসনিক কিছু কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন বলেও জানান তামিম, আমি নিজেকে পুরোপুরি নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে নিয়েছি। জিনিসটা পুরোপুরি ইলেকশন কমিশনের ওপর। পার্থক্য হলো আমি কোনো চিঠিও সাইন করছি না, কাউন্সিলরশিপ রিটার্নও করছি না। ১৯২ কাউন্সিলির হওয়ার কথা, ১৮৬ কাউন্সিলর সম্ভবত জমা পড়েছে। আরো কিছু চিঠি এসেছে। ওগুলো লিখে দেয়া হয়েছে ইসি সিদ্ধান্ত নেয়ার, কারণ টাইম ক্রস করে রিসিভ করেছি। এগুলোর পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। আশা করি একটা ওপেন ইলেকশন হবে। সবাই অংশগ্রহণ করবে, সবাই সবার মতো করে ভোট চাইবে।
তিনি যোগ করেন, এখানে বোর্ডের ডিরেক্টর প্রেসিডেন্ট বা সিইও কারো ভূমিকা থাকবে না। আমি আমার অধীনে যতটা পারি ফেয়ারনেস রেখে ইলেকশন করছি। আমি অংশ নিচ্ছি কাব নিয়ে। আজ (গতকাল) সাবমিট করেছি। খোঁজ নিলে দেখবেন, বোর্ড থেকে কোনো তদবির, অনুরোধ খুঁজে পাবেন না। সবাইকে কঠোর বার্তা দেয়া আছে, ইলেকশন যতটা সম্ভব ফেয়ার যেন হয়। আরো যোগ করেন, প্যানেলে যেতে চাই না।
কাব ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস নেই
এবারের বিসিবি নির্বাচন খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। বিশেষ করে ক্যাটাগরি-২, অর্থাৎ ঢাকার কাব কোটায় অনেকটা আগেই পরিচালক পদের সম্ভাব্য নামগুলো চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ৭৬ ভোটারের এই ক্যাটাগরিতে ১২ জন পরিচালক প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।
এ তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম তামিম ইকবাল। ওল্ড ডিওএইচএস কাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। তার সাথে রয়েছেন আবাহনীর কাউন্সিলর ফাহিম সিনহা, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের রফিকুল ইসলাম বাবু, ফেয়ার ফাইটার্সের সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ, এক্সিয়ম ক্রিকেটার্সের ইসরাফিল খসরু চৌধুরী, আজাদ স্পোর্টিংয়ের ইয়াসির আব্বাস এবং মেরিনার্স কাবের শাহনিয়ান তানিম।
আরো কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন মোহামেডানের কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স কাবের অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব শামিম আহমেদ, ধানমন্ডি স্পোর্টস কাবের ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল, শাইনপুকুরের আসিফ রাব্বানী এবং তেজগাঁও ক্রিকেট অ্যাকাডেমির সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। এই ১২ জনের পরিচালক হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
সম্ভাবনা কম জেলা ও বিভাগে
৬৪ জেলা ও সাত বিভাগের প্রতিনিধিদের ভোটে ক্যাটাগরি-১ এ চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক ফুয়াদ বিন রেদওয়ান এবং ঢাকা বিভাগ থেকে সাইদ বিন জামানের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত।



