লোহিত সাগরে টোল নেয়ার পরিকল্পনা হাউছিদের অস্বীকার

Printed Edition

আলজাজিরা

লোহিত সাগর ও বাবুল মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর কোনো প্রকার ফি বা টোল ধার্যের পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা। এই আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারে আগের মতোই বিনা খরচে জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।

শনিবার হাউছি-নিয়ন্ত্রিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নৌপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সুরক্ষায় তাদের পরিচালিত ‘সেফ ট্রানজিট সার্ভিস’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি লোহিত সাগরে চলাচলের জন্য অর্থ দাবি করে, তবে তারা ইয়েমেন সরকার কিংবা উক্ত সেন্টারের প্রতিনিধিত্ব করে না। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে এমন অননুমোদিত পক্ষকে অর্থ না দিতে এবং কোনো তথ্য শেয়ার না করতে সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক খবরে দাবি করা হয়, হাউছিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর টোল বসানোর চিন্তা করছে এবং জুলাইয়ে তেহরান সফরকালে ইরানি উপদেষ্টাদের সাথে ফি আদায়ের প্রক্রিয়া ও একটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরই হাউছিদের পক্ষ থেকে সংবাদটির ব্যাখা দেয়া হলো।

উল্লেখ্য, বাবুল মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে যুক্ত করেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ। চলতি বছরে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল চরম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর হাউছিদের সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রচেষ্টা নতুন আশঙ্কার সৃষ্টি করেছিল। ইয়েমেনের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবাও অভিযোগ করেছিলেন, হাউছিরা সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ‘ইরানি মডেল’ অনুকরণ করতে চাইছে। যদি সত্যি বাবুল-মান্দেব প্রণালীতে টোল আরোপ হতো, তবে এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো সৌদি আরব। কারণ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার পর দেশটি তেল রফতানিতে এই সমুদ্রপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছিল।

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছিল হাউছিরা। গত বছরের শেষভাগে যুদ্ধবিরতির পর হামলা কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। লোহিত সাগর ও বাবুল-মান্দেব প্রণালীতে নিরাপত্তা ফেরাতে ও বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গত সপ্তাহে সৌদি আরব ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে একটি নতুন আঞ্চলিক সামুদ্রিক জোট গঠন করেছে।