চট্টগ্রামে ইসকন ও সনাতনীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থমথমে অবস্থা

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন এলাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) কর্মীদের সাথে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দফায় দফায় সংর্ঘষের পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিরোধপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) হোসাইন মো: কবির ভূঁইয়া নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, দুই পক্ষ শনিবার কোতোয়ালি থানায় দুই দফা প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বসে সমাধানের জন্য এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন।

উপ-কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) হোসাইন মো: কবির ভূঁইয়া বলেন, শনিবার ভোররাতে তিন থেকে চার শতাধিক ইসকানের সমর্থক বিরোধপূর্ণ জায়গায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা একটি সনাতনী পরিবারের দরজা, জানালা ও স্থাপনা ভাঙচুর করে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত জন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

শনিবারের দুই দফা বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলার জন্য বলা হলেও গতকাল রোববার সকালে ইসকনের সমর্থকরা একটি ব্যানার টাঙিয়ে মন্দির এলাকায় পূজা-অর্চনা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। আমরা উভয় পক্ষকে বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শান্ত থাকতে বলেছি।

নন্দকানন রাধামাধব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ দাশ নয়া দিগন্তকে বলেন, সাধারণ সনাতনীর ব্যানারে একটি পরিবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। তারা নানা রকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রশাসন ও মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করছে।

এদিকে ইসকনের বিরুদ্ধে আগেও চট্টগ্রামে জমি দখল ও মন্দিরের নাম ব্যবহার করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রবর্তক সংঘ চট্টগ্রামের নেতারা বলেন, গেরুয়া বসনধারী ইসকন নামধারীরা পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখল করছে। যৌথ চুক্তি অমান্য করা ও পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তন করার অভিযোগও করেন।

এদিকে, সংঘর্ষের পর থেকে নন্দনকানন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, তারা মন্দির ও ভূসম্পত্তি রক্ষায় সবসময় সজাগ থাকবেন।