হাম মোকাবেলায় পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালত তার রুলে জানতে চেয়েছেন দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না। একই সাথে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেক পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ১০ মে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। গতকাল আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে ৭৭ জনের মৃত্যু হামের কারণে হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। বাকি ৩৯৮ শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।

ফুটপাথে হকার বরাদ্দ নীতিমালার বৈধতা প্রশ্নে রুল :

এদিকে ঢাকা শহরের রাস্তা ও ফুটপাথে হকারদের স্থান বরাদ্দ-সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ফুটপাথ ও রাস্তা জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে এই বরাদ্দ কেন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। গতকাল এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত ৫ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ শিরোনামে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নীতিমালায় হকার ব্যবস্থাপনায় কমিটি গঠন, নিবন্ধন প্রদান, স্থান নির্বাচন এবং নিবন্ধিত হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসা করার আইনি সুযোগ দেয়া হয়। নীতিমালাটির এই বরাদ্দ-সংক্রান্ত অংশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: সোহেবুজ্জামান জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। গতকাল আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো: রোকনুজ্জামান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মো: রোকনুজ্জামান জানান, ‘নীতিমালার মাধ্যমে ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাথ ব্যক্তিবিশেষকে বরাদ্দ দেয়া সংবিধানের ২১ ও ৩৬ অনুচ্ছেদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। রাস্তা ও ফুটপাথ জনগণের মৌলিক অধিকারের অংশ, যা কোনোভাবেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেয়া যায় না। এটি জনগণের নির্বিঘেœ চলাচলের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ করে।’

আদালত তার রুলে, হকারদের রাস্তা ও ফুটপাথ বরাদ্দ-সম্পর্কিত এই বিধান কেন দেশের সংবিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা চার সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট করতে বলেছেন। আদেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, আইনসচিব, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।