কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসংঘের শান্তিরা কার্যক্রমকে বাংলাদেশ মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন,
বাংলাদেশ বহুপীয়তার প্রতি অটল থেকে বিশ্বশান্তি রায় আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। শান্তিরীদের নিরাপত্তা, নারীর অংশগ্রহণ এবং শান্তিরা ব্যবস্থার সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।
গতকাল মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত শান্তিরাবিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরাবিষয়ক সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে মরক্কো ও ফ্রান্স সরকার। ২০১৬ সালে এর প্রথম আয়োজন হয়।
বহুপীয়তার প্রতি বাংলাদেশের অটল অবস্থান তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসঙ্ঘ শান্তিরা মিশনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবদান রাখা দেশ। শান্তিরায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের ১৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ বাংলাদেশের একটি অর্জন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার সময় তা আরো শক্তিশালী হয়েছে। সামাজিক সুরা, শিা সংস্কার ও নারীর মতায়নে চলমান উদ্যোগগুলো টেকসই শান্তির ভিত্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, শান্তিরা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক শান্তিরা কার্যক্রমে ভুল তথ্য ও ডিজিটাল হয়রানি একটি চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।
শান্তিরা কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং শান্তিরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে শামা ওবায়েদ মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিংয়ের (বিপসট) মাধ্যমে প্রাক-মোতায়েন প্রশিণ জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সন্ধ্যায় রাবাতের ফোর সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স-২০২৬ এর অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এতে তিনি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।



