এএফপি
মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদা-সহ রাশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে এখন জ্বালানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এবারই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। এতদিন দেশটিতে সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত এবং ইউরোপের তুলনায় এর দামও ছিল অনেক কম; কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এখন রাশিয়ার বহু মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি প্রকাশ করে ইয়েলেনা বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দেখি, পেট্রল আদৌ অবশিষ্ট আছে কি না।’
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রশাসন সঙ্কটকে অতটা গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেনের লক্ষ্য রুশ জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া। তবে রাজধানীর বাইরে সাধারণ চালকদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় বেশির ভাগ অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়িই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ফলে জ্বালানি সঙ্কট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভোলগদায় কিছু পেট্রল পাম্প বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকরা।
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৭ শ্রমিক নিহত
এপি জানায়, চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে একটি গুদামের সাতজন শ্রমিক নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে চালানো এই হামলায় দেশটির অন্যতম প্রধান অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর দু’টি বিশাল গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির একটি গুদাম তাম্বভ অঞ্চলের কোতোভস্ক শহরে এবং অন্যটি মস্কো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্টাল শহরে অবস্থিত। হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে জানান, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় মস্কো ও তাম্বভ অঞ্চলের দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক বা সরবরাহ কেন্দ্র’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি পোস্টে দাবি করেন, আগ্রাসী পক্ষ ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞাভুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজে এই কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করা হতো। তিনি আরো জানান, একটি তেল স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী আজভ সাগর এবং রুশ-অধিকৃত ভূখণ্ডেও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তাম্বভ অঞ্চলের গভর্নর ইভজেনি পারভিশভ জানান, কোতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কর্মরত সাতজন শ্রমিক নিহত এবং আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। অন্য দিকে মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানান, ইলেকট্রোস্টালে মোট ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ভোরোবিওভ আরো জানান, ইলেকট্রোস্টালের ঠিক উত্তরে মস্কো অঞ্চলের নোগিনস্ক শহরে আরো দু’জন আহত হয়েছেন; সেখানে কিয়েভের ড্রোন হামলার পর একটি তেল ডিপোতে আগুন ধরে গিয়েছিল। হামলার জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিকটবর্তী একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবন খালি করা হয়েছে।



