সিলেট টেস্ট

মুশফিকের সেঞ্চুরি ব্যাকফুটে পাকিস্তান

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় যখন দল চাপে পড়ে গিয়েছিল, তখন লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরি দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। সেই সুবিধাকে আরো বড় করে তুলতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে মুশফিকুর রহীমের অনন্য এক ইনিংস, বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে পাহাড়সম সংগ্রহ এবং ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল বাংলাদেশ! তাতে পুরোই ব্যাকফুটে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে ৩৯০ রান করে। প্রথম ইনিংসের লিড যোগ করে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান। জিততে হলে পাকিস্তানকে গড়তে হবে টেস্ট ইতিহাসের নতুন বিশ্বরেকর্ড! বর্তমানে টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পাকিস্তান যদি এই ম্যাচ জেতে, তবে শুধু বিশ্বরেকর্ডই নয়, নিজেদের টেস্ট ইতিহাসেও সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি গড়বে।

১৫৬ রানের লিড নিয়ে গতকাল তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিক দিন শুরু করেন। তবে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি শান্ত। খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রান করে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। এরপর লিটন দাস দলের হাল ধরেন। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সাবলীল ব্যাটিং করেন। মূলত মুশফিক ও লিটনের ৮৮ রানের জুটিই পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। লাঞ্চের আগেই বাংলাদেশের ২৪৯ রানের লিডে পৌঁছায়।

বিরতির পর আত্মবিশ্বাসী লিটন ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন। একই সাথে এটি ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার, যখন এক ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান করেন। এর আগে এক ম্যাচে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ১৯৩, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রান করা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে থামেন। দুই ইনিংসে তার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।

অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ শুরুটা ভালো করেও ১৯ রান করে আউট হন। তবে পুরো দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন মুশফিকুর রহীম। বয়স এবং ক্যারিয়ারের শেষভাগেও যে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টেস্ট ব্যাটার, সেটি আরো একবার প্রমাণ করলেন। ওয়ানডে ও টি-২০ থেকে অবসর নিলেও টেস্ট ক্রিকেটে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় সেঞ্চুরি করেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম শতক, যা বাংলাদেশী ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এই ইনিংসের মধ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৬ হাজার রান পূর্ণ করেন, যা বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটারের নেই। শততম টেস্ট খেলা প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হওয়ার পর এবার ব্যাট হাতে নতুন ইতিহাস লিখলেন তিনি!

মুশফিককে শেষদিকে ভালো সমর্থন দেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ২২ রান করেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামও ছোট ছোট কার্যকর ইনিংস খেলেন। পাকিস্তানি বোলাররা টেলএন্ডারদের দ্রুত ফিরিয়ে দিলেও মুশফিককে আউট করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাজিদ খানের বলে সøগ সুইপ খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তার বিদায়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

দিনের শেষভাগে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলেও আলো স্বল্পতার কারণে খেলা বেশিক্ষণ এগোয়নি। মাত্র দুই ওভার খেলার পরই দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। পাকিস্তানের দুই ওপেনার আওয়াইস ও ফজল কোনো রান তুলতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম টানা দুই মেডেন ওভার করেন। ফলে চাপ নিয়েই চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করতে হবে সফরকারীদের।

সিলেট টেস্টে সব সমীকরণই পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য শুধু বিশালই নয়, সিলেটের উইকেট ও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ বিবেচনায় প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। তবে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। পাকিস্তান যদি এই লক্ষ্য ছুঁতে পারে, তবে সেটি হবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রান তাড়ার ঘটনা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-(তৃতীয় দিন)

বাংলাদেশ ইনিংস : ২৭৮/১০ ও ১০২.২ ওভারে ৩৯০/১০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২, মুমিনুল ৩০, খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬, তাইজুল ২২, হাসান আলী ২/৮৩, আব্বাস ১/৬৬)।

পাকিস্তান ইনিংস : ২৩২ ও ২ ওভারে ০/০ (আজান আওয়াইস ০, আবদুল্লাহ ফজল ০)।

তৃতীয় দিন শেষে : বাংলাদেশ ৪৩৭ রানে এগিয়ে।