নয়া দিগন্ত ডেস্ক
নরসিংদীর মধাবদীতে ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে এক ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। কুষ্টিয়া ও ভোলায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর বলভদ্রাদী এলাকার ব্যবসায়ী মিলন মিয়ার বাড়িতে শুক্রবার রাতে দুর্ধষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্তার বড় ভাই নিহত ও অপর এক ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম শাহজাহান মিয়া (৫০) ও আহত হয়েছেন সুরুজ মিয়া (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে আট-দশজনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল মিলন মিয়ার বাড়িতে দরজা ভেঙে অস্ত্রের মুখে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করার সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাড়ির সদস্যদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই মিলন মিয়ার বড় ভাই শাহজাহান মিয়া (৫০) নিহত হন এবং একই পরিবারের সুরুজ মিয়া (৬০) আহত হন। আহত সুরুজ মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডাকাতরা প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের লাশ দাফনের পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হবে। ওই বাড়ির সিসিটিভির ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। ডাকাতদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পল্লীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিকফিল্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- দেবীনগর গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪৫) ও খানপুর গ্রামের আতি শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (৪৭)। আতি শেখ (৬৫) এবং সলিম শেখ (৫৮) কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মল্লিক মণ্ডল জানান, আমি আরিফুলের ইটভাটার কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। দাদনের মাধ্যমে স্থানীয় সলিমের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছিলাম। সেই টাকা পরিশোধের ব্যাপারে সলিমের সাথে আমার কথা হচ্ছিল এমন সময় অজ্ঞাত কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে দুইজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমাদের ছয়/সাতজনকে আহত অবস্থায় খোকসা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও সালিমের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় শুক্রবার বিকেলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে তারই জের ধরে রাত ১২টার পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এলাকায় পুলিশ মোতয়েন রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
তজুমদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে বসতঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পরিবারের বিরোধের জেরে মো: নূর ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অলুফা বেগম বাদি হয়ে তজুমদ্দিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ আবু জাফর (৫৮) নামে একজনকে আটক করেছে।
শনিবার সকালে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের বাদলীপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বদ্দি হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নূর ইসলাম তার রান্নাঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী আবু জাফর ও তার স্ত্রী এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাগি¦তণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নূর ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্ত্রী তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তজুমদ্দিন থানা পুলিশ আবু জাফরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরে নিহতের স্ত্রী অলুফা বেগম বাদি হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া দোলার পাড় নামক স্থান থেকে কমল চন্দ্র রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে ওই এলাকার একটি আদাক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কমল চন্দ্র কচুকাটা বন্দরপাড়া গ্রামের বীরেণ চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নিহত কমল চন্দ্র শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি। সকালে স্থানীয় লোকজন আদাক্ষেতের নালায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীতে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে ৫৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগে শনিবার সকালে মো: মোবারক শেখ (৫৭) নামে কথিত এক সাধুকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
মোবারক রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর গ্রামের মৃত ইসলাম শেখের ছেলে। এ ঘটনায় ওই নারীর বড় ভাই বাদি হয়ে মো: মোবারক শেখকে একমাত্র আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বাদি জানান, তার মানসিক প্রতিবন্ধী বোন ছোট ভাইয়ের বাড়ি থেকে তাদের বাড়িতে ফিরছিল।
গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কথিত সাধু মো: মোবারক শেখ তার বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে বোনের মুখ চেপে ধরে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। তার বোন বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে। একপর্যায়ে সে জানায়, লম্পট মো: মোবারক শেখ তাকে ধর্ষণ করেছে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই মো: সোহানুর রহমান জানান, মো: মোবারক শেখ তার নিজ ঘরে নানা রকম সাধনা করে থাকে।
সেই সাথে বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে কোনো স্কুলছাত্রী বা মহিলা যাওয়া আসা করলেই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। ফলে এলাকায় তার কুখ্যাতি রয়েছে। তা ছাড়া প্রতিবন্ধী নারীর ভাইয়ের দায়ের করা ধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।



