জাপানের নাগরিক সংবর্ধনায় ডা: শফিক

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই হবে

Printed Edition
জাপানের সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান
জাপানের সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই হবে। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে গণভোট ব্যর্থ হয়েছে, সুতরাং বাংলাদেশেও গণভোট ব্যর্থ হবে না। দেশের প্রায় ৭০% মানুষ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়ে নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা। বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাপানের সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন জাপানের নাগোয়া শাখার তত্ত্বাবধানে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাগোয়া শহরসহ বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে ডা: শফিকুর রহমানসহ উপস্থিত অতিথিদের বরণ করে নেয়া হয়।

উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সংবর্ধনা দিয়ে আসলে বাংলাদেশকেই সম্মানিত করেছেন। প্রবাসে থেকেও আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আবার ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এ জন্য আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবন্দী ৩৯ জন প্রবাসী ভাইয়ের মুক্তির বিষয়ে তিনি প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সাথে প্রবাসীদের অন্যান্য দাবি-দাওয়া নিয়েও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি এবং বাজার সিন্ডিকেটের কারণে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতির এই দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে সব রকম চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। একটি সমাজে যতদিন আল্লাহর ভয় প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন দেশের গুম, খুন ও দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাদের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে হারিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের রেফারেন্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এত মানুষের ত্যাগের পরও এখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হয় তাহলে জনগণ কখনো আমাদের ক্ষমা করবেন না। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর বিগত ফ্যাসিবাদের সময়কার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না হয় সেজন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি বলেন, গণভোটের একটি দাড়ি-কমাও ছাড় দেয়া হবে না। ক্ষমতাসীনরা যদি জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাহলে তাদেরকেও রাজপথে মোকাবেলা করা হবে। ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।