পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মৃত ব্যক্তিদের নামে বয়স্কভাতা উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে অন্তত ৯২৭ জন মৃত ব্যক্তির নামে নিয়মিত ভাতার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পরও তাদের স্বজনদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে বয়স্কভাতার টাকা জমা হচ্ছে। মোক্তার প্যাদা প্রায় এক বছর আগে মারা গেলেও সম্প্রতি তার অ্যাকাউন্টে এক হাজার ৭০০ টাকা জমা হয়েছে। একইভাবে কয়েক মাস আগে মারা যাওয়া জয়নাল গাজীর অ্যাকাউন্টে এক হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০২১ সালে মারা যাওয়া আমজেদ কাজীর অ্যাকাউন্টেও ভাতার টাকা এসেছে বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তিদের তথ্য হালনাগাদ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর তথ্য গোপন করে ভাতা উত্তোলন করছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩০ থেকে ১৩০ জন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ধুলাসার ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১৩০ জন এবং মহিপুর ইউনিয়নে সর্বনিম্ন ২৮ জনের তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, অনেক পরিবার মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে না। ফলে ভাতাভোগীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা সম্ভব হয় না।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় বর্তমানে ১১ হাজার ৭১৪ জন বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে অসচ্ছল ও নির্ধারিত বয়সসীমার ব্যক্তিরা মাসে ৬৫০ টাকা করে ভাতা পান।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, মৃত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের চৌকিদারদের সহায়তায় ৯ শতাধিক মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


