নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রকৌশলের বিভিন্ন পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাজে নিয়োজিত না করায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের স্থবিরতা এখনো কাটছে না। দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় পরে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও দক্ষ এবং মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকার পরে ওএসডিতে থাকা অনেক কর্মকর্তাকে এখনো কাজে ফেরানো হচ্ছে না। বিশেষ করে সিনিয়র তিন প্রকৌশলীকে বিনা কারণে ওএসডি করে রাখায় অধিদফতরের প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের তদারকিতে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। পদ ও দায়িত্ব অনুযায়ী দক্ষ প্রকৌশলীদের কাজে লাগাতে পারলে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা প্রকৌশল সেক্টরের অভূতপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, ২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকাকালে অন্যায়, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে সে সময়কালের প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রায়হান বাদশাকে বিনা কারণেই ওএসসি করা হয়। একই সাথে ওএসডি করা হয় আরো দুই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকেও। তারা হলেন প্রকৌশলী আফরোজা বেগম ও প্রকৌশলী সমীর কুমার রজক দাস। প্রকৌশলী রায়হান বাদশা ওই সময়ে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় আফরোজা বেগম ও সমীর কুমার রজক দাস দু’জনই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তারা ওএসডি হওয়ার পর দীর্ঘ দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এই তিন কর্মকর্তাকে এখনো তাদের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে এবং দক্ষতা ও যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখনো কোনো পদে পুনর্বহাল করা হয়নি। আর এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর এবং বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকৌশলী এই প্রতিবেদককে জানান, দক্ষ ও কর্মঠ কর্মকর্তাদের কাজের বাইরে রাখায় অধিদফতরে চাহিদা থাকার পরও নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ দিন থেকেই নতুন কোনো প্রকল্পও হাতে নেয়া হচ্ছে না। আবার মাঠপর্যায়ে অনেক প্রকল্পের কাজে ধীরগতি কিংবা অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও কোনো তদারকি করাও সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া শিক্ষা প্রকৌশলের সদর দফতর প্রতিষ্ঠার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বহুতল ভবনের কাজ শুরু হলেও সেই কাজেও কোনো তদারকি হচ্ছে না। আগারগাঁওয়ে কিছু কাজ শুরু হলেও পরে এখন সেখানকার মূল কাজই বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে পুরো অধিদফতরে প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষও রয়েছে। তাই দক্ষ ও অতীতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছেন এমন কর্মকর্তাদের কাজে লাগানোর বিষয়েও দাবি উঠেছে; অন্যথায় পুরো সেক্টরেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তৈরি হতে পারে। শিক্ষাপ্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ওএসডি থাকা এই তিন কর্মকর্তাই ১৯৯৪ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর তারা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পদে এবং বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনও করেছেন। তাদের রয়েছে দীর্ঘ দিনের কাজের অভিজ্ঞতা। তাই তাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করে স্ব স্ব পদে নিয়োগের আবেদনও জানিয়েছেন তারা।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাজে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই প্রতিবেককে জানিয়েছেন, আমরা দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী কাজেই নিয়োজিত করতে চাই। তবে এ জন্য একটু সময় লাগবে। নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমরা চাইছি শিক্ষা যে বিভাগে যিনিই দক্ষ বা অভিজ্ঞ থাকবেন তাদেরকে ঠিক সেই জায়গাতেই দেয়া হবে। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে। অন্য কোনো পরিচয়ে নয় বরং দেশের জন্য এবং শিক্ষা সেক্টরের জন্য যিনিই তার দক্ষতার পরিচয় দেখাতে পারবেন তাকে ঠিক সেখানেই দায়িত্ব দেয়া হবে।



