সিলেটেও জয়ের ধারা থাকবে তো

Printed Edition

মীর মোকাম্মেল আহছান

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজে ১-১ সমতায় শেষ করলেও ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ দুই টেস্টের সিরিজ। প্রথম টেস্টে মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১০৪ রানের জয়ে ১-০তে সিরিজে এগিয়ে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হকরা। এর আগে পাকিস্তানকে তাদেরই মাটিতে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। সফরকারীদের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট জয়ে সিরিজ নিজেদের করে রাখতে চায় বাংলাদেশ। আগামী শনিবার শুরু হবে শেষ টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচ খেলতে এবার দুই দলই অবস্থান করছে সিলেটে। দ্বিতীয় টেস্ট জয়ে সিলেট স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান কথা বলে টাইগারদের বিপক্ষে। এই ভেনুতে পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দু’টি জয় পেলেও হেরেছে তিন টেস্টে। তবে সবশেষ এই মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে শান্ত-লিটনরা। পাকিস্তানকে হারিয়ে এই মুহূর্তে বেশ সজীব বা চনমনে মানসিকতা নিয়ে সিলেটে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই ম্যাচেও কি টাইগারদের পক্ষে কথা বলবে সিলেটের পিচ। এই ভেনুতে ঢাকার জয়ের আত্মবিশ্বাস কি ধরে রাখতে পারবে বাংলাদেশ?

সবুজ পাহাড় আর চা-বাগান ঘেরা সিলেটের স্টেডিয়াম। এই ভেনুতে টাইগাররা গত পাঁচ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও দলীয় পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক দেখিয়েছে। সব শেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই ভেনুতে গত নভেম্বরে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ১১ নভেম্বর শুরু হওয়া সেই টেস্টে ইনিংস ও ৪৭ রানে জয়ী হয়েছিল টাইগাররা। সিলেটের উইকেটে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। আইরিশদের প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে ১৬৮ রানের ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। ৮০ রানে সাদমান আউট হলেও ১৭১ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেছিলেন জয়। ওপেনিংয়ের পর সেই ধরায় ছিলেন টপঅর্ডাররাও। এরপর সেঞ্চুরি করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১০০)। ব্যাট কথা বলেছিল মুমিনুল হক (৮০) ও লিটন দাসের (৬০)। নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন টাইগার বোলাররা। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ২৫৪ রানেই আয়ারল্যান্ডকে থামিয়ে দিয়েছিল তারা।

বাংলাদেশের বাড়তি শক্তি হিসেবে সিলেট স্টেডিয়ামে কাজ করে দর্শকরাও। প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে থাকে উৎসবের আবহ। সমর্থকদের উচ্চস্বরে সমর্থন খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায়। এখানকার উইকেট ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগের জন্যই ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ায় নিজেদের দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ থাকে ক্রিকেটারদের।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরে ২০১৮ সালে এটি টেস্ট ভেনুর পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা লাভ করে। এই মাঠে এখন পর্যন্ত পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার প্রথমটিতে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে ১৫০ রানে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। তৃতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২৪ সালের মার্চে ৩২৮ রানে পরাজিত হয়েছিল টাইগাররা। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আবার জিম্বাবুয়ের কাছে ৩ উইকেটে হার বাংলাদেশের। আর সবশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত নভেম্বরে ইনিংস ও ৪৭ রানের জয়। আগামী শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সিলেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে কি জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারবে শান্ত-মুশফিক-লিটনরা।