সন্ত্রাসী জাকির বাহিনীর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সেগুনবাগিচার মানুষ

দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী মদদপুষ্ট জাকির হোসেনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার মানুষ। এলকাবাসীকে মারধর, পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িঘর, এমনকি চলাচলের জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সরকারি খাস জমি দখল করে মাদককারবারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে আসছেন এ জাকির গং। যার কারণে অল্পদিনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন জাকির। সর্বশেষ জাকিরের নেতৃত্বে গত ২১ মে বুধবার রাতের আঁধারে পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতভাবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) হামলা চালায় বিউটি খাতুন, আদর আক্তার, উদয় হাসান, হৃদয়, অন্তরা, ইমু, রানা, কামাল, রতনসহ অজ্ঞাত প্রায় ৫০ জন সন্ত্রাসী। এ সময় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, দফতর সম্পাদক রফিক রাফি, সদস্য মশিউর রহমান, মাহবুব হাসান, দেলোয়ার মহিন, মফিজুল সাদিকসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২১ মে রাতে হঠাৎ জাকির গং ডিআরইউ কার্যালয়ের সামনে থেকে চেয়ারম্যান টি স্টল নামে একটি দোকান ৫০ হাজার টাকার মালামালসহ লুট করে নিয়ে যায়। দোকান লুটের বিষয়ে ডিআরইউ’র সিনিয়র সদস্য মশিউর রহমান জানতে চাইলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর আক্রমণ চালানো হয়। এ ছাড়া সভাপতি আবু সালেহ আকনের দিকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন জাকির হোসেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে জাকির ও তার অনুসারীরা। তারা জোর করে অন্যের জায়গা দখল করে নিয়েই থেমে থাকেনি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।

তারা জানান, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আফজাল হোসেন জাকিরের বেয়াই। তিনি প্রায়ই জাকিরের বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন। জাকির এমপি আফজালের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন আফজাল জাকিরের বাসায় আত্মগোপন করেছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা জানায় আফজালের ১০টি লাগেজ এখনো জাকিরের বাসায় রয়েছে। এর মধ্যে বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। এ ছাড়া জাকিরের বড় মেয়ে আদরের স্বামী র‌্যাবের কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের অন্যতম সহযোগী। ৫ আগস্টের পর বেনজির আহমেদের মতো ওই র‌্যাব কর্মকর্তাও কৌশলে দেশত্যাগ করে। যাওয়ার সময় সে বিপুল পরিমাণ অর্থ, একটি গাড়ি ও গুলশানের ফ্লাট জাকিরের বড় মেয়েকে দিয়ে গেছে। সন্ত্রাসী জাকির আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে সেগুনবাগিচায় ২টি বাড়ি দখল করেছে। তার দখলকৃত জায়গায় নিয়মিত মাদকব্যবসা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় জাকির ও তার স্ত্রী বিউটি খাতুন। গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী জাকির হোসেন ও তার অনুসারীরা সেগুনবাগিচা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জাকিরের পরিবারের সদস্যরা মাদককারবারের সাথে জড়িত এমন অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় জাকির হোসেন গং আমার ও ডিআরইউ সদস্যদের ওপর পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত চৌধুরী আলমের গুম হওয়ার নেপথ্যের বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করা। জাকির হোসেনের সাথে চৌধুরী আলমের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানা যায়। জাকির হোসেনের মাদকব্যবসা, অস্ত্র ব্যবহারসহ সব অপকর্ম খতিয়ে দেখে দ্রুত মামলার চার্জশিট দেয়া দরকার।