নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে হাম ও উপসর্গে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৭৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে দু’ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল, বাকি ৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে মোট আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৩৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৯২৯ জন।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব সোমবার (১৮ মে) সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে সারা দেশে ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৭ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৯৮ শিশু।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৯৮৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯০ জন।
মমেকে এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৪ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গতকাল সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়াসহ হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই শিশু, যাদের মধ্যে অনেকেই অপুষ্টিতে ভোগছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৪১৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ২৩৩ জন। ময়মনসিংহ জেলায় পরীক্ষাগারে পাঠানো ৪৮৬টি নমুনার মধ্যে ১৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বা অতিরিক্ত বেডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না নেয়া শিশুদের ঝুঁকি বেশি থাকে। আক্রান্তদের মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
সিলেটে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬ মাসের শিশু ঈশিতা কাহের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাসিন্দা। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যাওয়া ৯ মাসের সুস্মিতা মৌলভীবাজার জেলার সদর থানার ও একই হাসপাতালে মারা যাওয়া ৯ মাসের লাবিবা সিলেট নগরীর পীরমহল্লার বাসিন্দা।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৩৬ শিশু হাম উপসর্গে মারা যান।
গতকাল এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে নতুন কারো হাম নিশ্চিত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৯২ শিশু। এ দিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৮১ জন শিশু।



