চীন সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার

দ্য ডন
Printed Edition
তিন দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছালে ইসহাক দারকে অভ্যর্থনা জানান চীনা কর্মকর্তারা : ইন্টারনেট
তিন দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছালে ইসহাক দারকে অভ্যর্থনা জানান চীনা কর্মকর্তারা : ইন্টারনেট

ভারতের সাথে যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গতকাল সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে চীন গেছেন। ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সীমান্ত সঙ্ঘাত ও যুদ্ধবিরতির পটভূমিতে তার এ সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর আমন্ত্রণে ইসহাক দার ১৯ থেকে ২২ মে বেইজিং সফর করবেন।

সফরে তিনি চীনা নেতাদের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ পাকিস্তান-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করবে।

ইসহাক দারের এই সফরটি পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বিনিময়ের অংশ এবং দুই দেশের ‘অবিচল ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-কে আরো জোরদার করার অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আজ ২০ মে চীনে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এ বৈঠকে চীন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।

সাম্প্রতিক ভারতের সাথে সঙ্ঘাত চলাকালীন চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানায়। বেইজিংয়ে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত পাকিস্তানকে ‘আয়রন ব্রাদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে চীন ও পাকিস্তান সব সময় একে অপরের পাশে থেকেছে। এমন প্রেক্ষাপটে চীনে ইসহাক দারের এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তার ওপর আফগানিস্তানকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গঠনের এই উদ্যোগে চীন নিজেদের আঞ্চলিক নেতৃত্বের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করছে। পাকিস্তান একইসাথে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ধরে রাখতে চায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ‘অগ্রাসী অবস্থান’কে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত। চীনে ইসহাক দারের এই সফরের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।